বিনোদন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ৯০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
আবুল হায়াত। বরেণ্য অভিনেতা, নির্মাতা ও লেখক। সত্তর দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তিনি অভিনয়ের জাদুতে মুগ্ধ করে রেখেছেন দর্শককে। টিভি নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপন- সব মাধ্যমেই সফল তিনি। লেখালেখিও করছেন সমানতালে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদকসহ নানা সম্মাননা। অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে নন্দনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
গতকাল ছিল আপনার জন্মদিন। বিশেষ দিন কেমন কাটল?
আমার এবং আমার নাতনি, নাতাশার বড় মেয়ে শ্রীষার জন্মদিন একই দিনে। নাতনির ১৩ আর আমার ৭৯তম জন্মদিন। যে জন্য জন্মদিনের আনন্দ হয় দ্বিগুণ। জন্মদিনের প্রথম প্রহরে কেক কাটা হয়েছে। পরদিন নিজেদের মধ্যে আলাদাভাবে দিনটি উদযাপন করি। চ্যানেল আইয়ের ‘তারকাকথন’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলাম। ছোটবেলা আমার জন্মদিন হয়েছে বলে মনে পড়ে না। রেওয়াজ তখন ছিল না। ওই দিন দোয়া-দরুদ পড়তেন বাবা-মা। আমাদের ভাগ্নি-ভাগ্নেদের জন্মদিনগুলো দেখতাম, বেশ ঘটা করে উদযাপন হতো। আমার জন্মদিন উদযাপিত হয় বুড়ো বয়সে এসে [হাসি]।
শুনেছি, জন্মদিনকে ঘিরে ‘শোধ’ নামে একটি নাটক লিখেছেন। কোন ভাবনা থেকে এটি লেখা-
নাটকটি লিখেছিলাম অনেক আগেই। টিভি নাটক ছিল। পরে মনে হলো এটি মঞ্চের জন্য যোগ্য। এটি সামন্ততান্ত্রিকের বিরুদ্ধে লেখা নাটক। অত্যাচারী ও অত্যাচারিতের কাহিনি। বিষয়টি নাটকীয়ভাবে তুলে ধরেছি। সমাজের নানা সমস্যা রয়েছে গল্পে। শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে ১০ সেপ্টেম্বর এর মঞ্চায়ন হবে। স্টেজ ওয়ান ঢাকার প্রযোজনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন ডমেনিক গোমেজ।
অনেক আগেই আত্মজীবনী লেখা শুরু করেছিলেন। কতদূর এগোল-
লেখালেখি করি শখের বশে। আত্মজীবনী তো অনেক বড় বিষয়। দীর্ঘ সময় নিয়ে লিখতে হয়। আত্মজীবনী ভালোভাবে শেষ করতে চাই। এখন পর্যন্ত শৈশব ও কৈশোরকালপর্ব লিখেছি। অনেক কথা উঠে আসবে সেখানে। আমার অভিনয়জীবন বহু বছরের। এ ছাড়া জীবনের আরও অনেক ঘটনা আছে, যা তুলে ধরার চেষ্টা করব। ছেলেবেলা কেমন কেটেছে, সেসবের ভালো অধ্যায় দাঁড়িয়েছে। আমি ভারত থেকে কীভাবে এ দেশে এলাম, সেটি দিয়ে শুরু করেছি। মানুষের সঙ্গে মেশামেশি, মিডিয়ার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, কীভাবে কাজ করছি- সমাজ, পরিবার, বাবা-মা, ভাইবোন সবার কথা উঠে আসবে।
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে কখনও কি ভেবেছেন?
আমি যতটুকু করতে পারি, তার চেয়ে বেশি করেছি। যা চেয়েছি, তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কোনো অন্ত নেই জীবনে। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান- শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই আমাকে ভালোবাসেন। এই ভালোবাসাই জীবনের সেরা পুরস্কার। যত পুরস্কারই পাই না কেন এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর নেই।
জীবনকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
এককথায় যদি বলতে হয় তাহলে বলব- জীবন চ্যালেঞ্জিং এবং মধুময়।বেঁচে থাকতে হলে কাজ করতে হবে। কাজ করা মানে আনন্দ করা। কাজের মধ্যে আনন্দ আর আনন্দের মধ্যে বেঁচে থাকা- এটাই জীবন।
টিভি নাটকের এই সময় কেমন মনে হয়?
আমি সব ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে চাই। টিভি নাটকের এখন যে কোয়ালিটি দেখছি, তাতে খুব কষ্ট পাই। আমরা এই পেশায় একটা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছি। তরুণ প্রজন্ম নিজেদের পেশা গড়তে চায় এখানেই। তারা ভালো কাজ করতে চেয়েও পারছে না। তাদের বাধা অনেক। অর্থগত বাধাই প্রধান। মিডিয়ায় যাঁরা নাটক প্রযোজনা করেন কিংবা চ্যানেলে যাঁরা নাটক প্রচার করেন, তাঁরা যদি সুস্থ নাটকের জন্য সুস্থ বাজেট না দেন, তাহলে ভালো কাজ করা সম্ভব নয়। এখন গড়পড়তা নাটক হচ্ছে। নাচানাচি-হইহই। জোর করে দর্শক হাসানোর চেষ্টা চলছে। এগুলো যদি বন্ধ না নয়, তাহলে দর্শক টিভি নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। আমরা যে ভালো নাটক বানাতে পারি, তার প্রমাণ দিয়েছি। এখন ওটিটিতে আন্তর্জাতিক মানের কাজ হচ্ছে।
টিভি নাটকের দুরবস্থার জন্য দায়ভার কাদের?
আমি মনে করি, টিভি নাটকের এ বেহাল অবস্থা ফেরাতে চ্যানেলওয়ালাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কারণ, চ্যানেলের মাধ্যমেই নাটকগুলো প্রচার হয়। তাঁরা যদি নাটকের কোয়ালিটি কন্ট্রোল না করেন তাহলে আর কে করবেন? নির্মাতা যে যাঁর মতো করে বানাচ্ছেন। সেটা ভালো কি খারাপ, তা তো চ্যানেলই দেখবে। তাঁরা যদি কম পয়সার নাটক প্রচার করেন, তাঁকে তো দায়িত্ব নিতেই হবে। অনেক সময় দেখা যায়, অনেক চ্যানেল জেনেশুনেই মানহীন নাটক প্রচার করছে। এটি মোটেও কাম্য নয়। তাঁরা প্রথম থেকেই ধরে রেখেছেন, কম পয়সার নাটক প্রচার করবেন। এক ঘণ্টার নাটক ৯০ হাজার টাকায় কিনছেন তাঁরা। এটি কী করে সম্ভব! সেই নাটকের কোয়ালিটি কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়।
ওটিটিতে কাজের আগ্রহ কেমন?
এ মাধ্যমে কাজের আগ্রহ অবশ্যই আছে। কিন্তু আমাকে সেভাবে কেউ এখনও ডাকেনি। যে জন্য কাজ করা হয়নি। সেখানে বাজেট ভালো। বাজেট ভালো থাকলে শিল্পীরা মন দিয়ে কাজ করতে পারে। শুধু বাজেট দিলেই যে ভালো কাজ হবে, এটাও বলতে চাই না; সেখানে তার সক্ষমতা থাকতে হবে।
নাটক-সিনেমায় জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের চরিত্র কম থাকে…
হ্যাঁ, এটা আমারও মনে হয়। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা নেই। কলকাতায় জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের দিয়ে শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করানো হয়। তাঁদের জন্য চরিত্র লেখা হয়। এখানে অভিজ্ঞতাকে বাতিল হিসেবে ধরা হয়। এটা সবচেয়ে করুণ অবস্থা।