লাইফস্টাইল ডেস্ক | বুধবার, ২২ জুন ২০২২ | প্রিন্ট | ১১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
খাবারের বিপাকক্রিয়া এবং শরীর সুস্থ রাখতে ওমেগা ৩-এর কোনও বিকল্প নেই। এর সাপ্লিমেন্টও বিভিন্ন উপায়ে শরীরকে সবল রাখে (Health Tips)। কিন্তু এর সঠিক ডোজ নেওয়া হচ্ছে তো? সেটা খেয়াল রাখতে হবে। কারণ শরীরকে সুস্থ এবং চাঙ্গা রাখতে ওমেগা ৩ সাপ্লিমেন্টের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যবহার করা হয়। যখনই সেই সীমা অতিক্রম করে তখনই প্রভাব পড়ে শরীরে। ডোজ বেশি হয়ে গেলে শরীর খারাপের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ওমেগা ৩ কী জন্য প্রয়োজন: ওমেগা ৩ এক ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু ভিটামিন বি১২-এর মতো এটাও শরীরে উৎপন্ন হয় না। এর জন্য বাইরের খাবারের উপর নির্ভর করতে হয়। এখন খাবার থেকে ওমেগা ৩-এর পুষ্টিগুণ শরীরে না পৌঁছলে অনেকেই সাপ্লিমেন্টের উপর নির্ভর করেন। বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ, মাছের তেল, শণের বীজ, আখরোট এবং চিয়া বীজে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। কিন্তু যাঁরা মাছ খান না, নিরামিষাশী, তাঁদের শরীরে এই ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য সাপ্লিমেন্ট নিতে হয়।
তিন ধরণের ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। প্রথমত, আলফা-লিনোলিক অ্যাসিড, এটা শরীরকে পর্যাপ্ত শক্তি যোগায়। দ্বিতীয়ত, ইকোসাপেন্টাইনয়িক অ্যাসিড, এটা বেশিরভাগ মাছে পাওয়া যায়। তৃতীয়ত, ডকোসাহেক্সায়েনোয়িক অ্যাসিড, এটা মস্তিষ্ক, রেটিনা এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলির একটি কাঠামোগত উপাদান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের যোগান থাকলে স্তন ক্যানসার এবং বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগের ঝুঁকি কমে। শুধু তাই নয়, অবসাদ এবং বিষন্নতা কাটাতেও ম্যাজিকের মতো কাজ করে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।
ওমেগা ৩-এর আদর্শ ডোজ: ওমেগা ৩ শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও দরকার হয় খুব অল্প পরিমাণ। তাই সাপ্লিমেন্ট নিলে সঠিক পরিমাণে নেওয়া হচ্ছে কি না সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ডোজ বেশি হলে হয় সেটা নষ্ট হবে, নয় তো শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ অনুসারে, একজন ব্যক্তির গড়ে ২৫০ মিলিগ্রাম থেকে ২ গ্রাম পর্যন্ত ইকোসাপেন্টাইনয়িক অ্যাসিড এবং ডকোসাহেক্সায়েনোয়িক অ্যাসিড নেওয়া উচিত। ডকোসাহেক্সায়েনোয়িক অ্যাসিড যেহেতু শরীরের একাধিক অঙ্গের কাঠামোগত উপাদান তাই বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী ওমেগা ৩ সাপ্লিমেন্টে অন্তত ২৫০ মিলিগ্রাম ডিএইচএ থাকা উচিত। তবে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ওভারডোজ হলে শরীরের কী ক্ষতি হতে পারে: ওমেগা ৩ সাপ্লিমেন্ট ওভারডোজ হয়ে গেলে জিভে আঁশটে স্বাদ লেগে থাকে। শুধু তাই নয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। আচমকা ওজন বেড়ে যেতে পারে। এমনকী, সারা শরীরে ফুসকুড়ি বেরনোও অস্বাভাবিক নয়। তাই এই লক্ষণগুলো থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।