নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
৯ নং টিলাগাঁও ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশায় একজন সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব
কুলাউড়া উপজেলার ৯ নং টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকা মোঃ আব্বাছ আলীকে ঘিরে ইউনিয়নবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা।
ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আব্বাছ আলী দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নিজের অবস্থানে অটল থেকেছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দল পরিবর্তন না করে নিজের রাজনৈতিক আদর্শে অবিচল থেকেছেন, এমনটাই দাবি তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যাননি বলে তাঁর সমর্থকরা জানান।
তবে তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক রাজনীতির বাইরেও-মানুষের পাশে থাকা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।
শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা
মোঃ আব্বাছ আলী এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর এই সম্পৃক্ততা তাঁকে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নানা সমস্যা সম্পর্কে কাছ থেকে জানার সুযোগ দিয়েছে।
একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। সেই বিবেচনায় শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
দুঃখী মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়
এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মোঃ আব্বাছ আলী বিভিন্ন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন বলে তাঁর পরিচিতজনরা জানান।
মসজিদ, মাদ্রাসা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সহযোগিতার কথা এলাকায় আলোচিত। একই সঙ্গে এলাকার রাস্তা-ঘাটের সমস্যা, সামাজিক বিভিন্ন সংকট কিংবা মানুষের ব্যক্তিগত দুর্ভোগের বিষয়েও তিনি সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করে আসছেন।
তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধিত্ব তাঁর কাছে কেবল একটি পদ নয়, বরং এটি মানুষের সেবা করার একটি সুযোগ।
চেয়ারম্যান হিসেবে যে গুণগুলো গুরুত্বপূর্ণ
একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের জন্য শুধু রাজনৈতিক পরিচয় যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সততা, ন্যায়বোধ, মানুষের কথা শোনার মানসিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল নাগরিকের জন্য কাজ করার মানসিকতা।
মোঃ আব্বাছ আলীকে যারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তাদের মতে, তাঁর মধ্যে এসব গুণের সমন্বয় রয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক স্বচ্ছলতা রয়েছে-এ কারণে জনপ্রতিনিধির পদকে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই বলেও তাঁর সমর্থকরা মনে করেন। বরং মানুষের অধিকার ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেন।
দল-মতের ঊর্ধ্বে সবার জন্য কাজ করার প্রত্যাশা
টিলাগাঁও ইউনিয়ন একটি বৈচিত্র্যময় জনপদ। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শ্রেণি-পেশার মানুষ বসবাস করেন। একজন চেয়ারম্যানের কাছে তাই প্রত্যাশা থাকে—তিনি যেন নির্বাচনের পর দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমগ্র ইউনিয়নবাসীর জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
আব্বাছ আলীকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার অন্যতম কারণও এটি। তাঁর সমর্থকদের দাবি, নির্বাচিত হলে তিনি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষের প্রয়োজন ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সেবা নিশ্চিত করতে চান।
উন্নয়ন ও জননিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা
টিলাগাঁও ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, রাস্তা-ঘাট সংস্কার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, অসহায় মানুষের সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা-যোগ্য, সৎ ও সক্রিয় নেতৃত্ব পেলে এসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। তাঁদের মতে, একজন চেয়ারম্যানকে হতে হবে সবার কথা শোনার মানুষ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মানুষ এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহসী নেতৃত্ব।
এই প্রত্যাশার জায়গা থেকেই অনেকেই মোঃ আব্বাছ আলীকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান হিসেবে বিবেচনা করছেন।
“পদ নয়, মানুষের সেবা করাই লক্ষ্য”
মোঃ আব্বাছ আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকতে চান। চেয়ারম্যান হওয়ার আকাঙ্ক্ষার পেছনেও তাঁর মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি মানুষের সেবার কথাই তুলে ধরেন।
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর-জনপ্রতিনিধিত্ব মানে মানুষের কাছে যাওয়া, মানুষের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।
টিলাগাঁও ইউনিয়নবাসীর সামনে নতুন প্রত্যাশা
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন প্রশ্ন—টিলাগাঁও ইউনিয়নবাসী কেমন নেতৃত্ব চান?
তাঁদের প্রত্যাশা এমন একজন চেয়ারম্যান, যিনি হবেন সৎ, নিষ্ঠাবান, মানবিক, সাহসী, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী; যিনি নির্বাচনের আগে যেমন মানুষের পাশে থাকবেন, নির্বাচনের পরও তেমনি সাধারণ মানুষের দরজা পর্যন্ত পৌঁছাবেন।
মোঃ আব্বাছ আলীকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে যে আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণও তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মানুষের পাশে থাকার অভিজ্ঞতা।
তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই নির্ধারণ করবে টিলাগাঁও ইউনিয়নের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে। নির্বাচনের মাঠে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, অতীত কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত সততা, নেতৃত্বের যোগ্যতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয়।
কিন্তু টিলাগাঁও ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা—মোঃ আব্বাছ আলী আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলে ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত হবে একটি সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব। তাঁর কাছে চেয়ারম্যানের পদ কোনো ক্ষমতার আসন নয়, বরং এটি মানুষের সেবা, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং সুখে-দুঃখে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার একটি মহান দায়িত্ব।