অনলাইন ডেস্ক: | রবিবার, ২৩ মে ২০২১ | প্রিন্ট | ২২৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কারাগার থেকে বের হয়ে গাড়িতে সংবাদিক রোজিনা ইসলাম
জামিনে মুক্ত হলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। রোববার বিকেল সোয়া ৪টার কশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। তাকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকায় আনা হচ্ছে।
কারাগার থেকে বের হয়ে রোজিনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সংবাদিকতা চালিয়ে যাব। দেশবাসী ও সাংবাদিক সমাজের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
এরআগে সকালে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিন পান তিনি। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) বাকী বিল্লাহ রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। ভার্চ্যুয়ালি এ শুনানি হয়।
শুনানির জন্য সকাল থেকেই আদালতে অপেক্ষায় ছিলেন আইনজীবীরা। আদালতের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদেরও ভিড় দেখা গেছে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু আদালতকে বলেন, ‘মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ মামলার আসামি রোজিনা ইসলাম যদি তার পাসপোর্ট আদালতে জমা দেন, সেক্ষেত্রে তার জামিনে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
পরে রোজিনা ইসলামের পক্ষ থেকে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ যে শর্ত দিয়েছে, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
আদালত উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে আদালত বলেন, গণমাধ্যম শক্তিশালী মাধ্যম। সবাই যেন দায়িত্বশীল আচরণ করেন।
জামিন আবেদনের শুনানির পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের জানান, এ মামলায় কিছু তথ্য-উপাত্ত আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে কী তথ্য, তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।
প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির’ অভিযোগে অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে গত ১৭ মে শাহবাগ থানায় মামলা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গত সোমবার রোজিনা সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে বেলা ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৯টার দিকে তাকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাতেই রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরের দিন মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনার বিরুদ্ধে পুলিশের করা রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জামিন শুনানির জন্য ২০ মে বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহ। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী শুনানিতে দুই পক্ষের আইনজীবীরা ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন। তবে আদালত সেদিন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।
রোজিনার বিরুদ্ধে করা মামলাটির তদন্তভার গত বুধবার পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা শাখা এ মামলা তদন্ত করছে।