অর্থনীতি ডেস্ক | সোমবার, ০৭ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ৯১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
যানজট রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা। প্রায়ই অসহনীয় যানজটে পড়তে হয় নগরবাসীকে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, যানজটে পরিবহনের গতি ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের কম। আর প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৯ শতাংশ বিনষ্ট হয় এতে। অর্থমূল্যে এ ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। অবর্ণনীয় যানজটের একটি কারণ সড়কের জলাবদ্ধতা। এ যানজট এবং জলাবদ্ধতা কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিনএনসিসি) পক্ষ থেকে।
যানজট কমিয়ে আনার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সড়কে জলবদ্ধতা কমাতে ড্রেনেজ লাইন নির্মাণসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম-সংবলিত একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় অঞ্চল-২, ৪ ও ৫ এর অবকাঠামো উন্নয়ন নামের এই প্রকল্পটির উদ্যোগী মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। ডিএনসিসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। সুপারিশে কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডিএনসিসি এলাকার সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন হবে। পথচারীদের চলাচল সুগম হবে। মান উন্নয়ন হবে জীবনযাত্রার। সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রকল্পটি অবদান রাখবে।
এতে আরও বলা হয়, প্রকল্পটি সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এ পরিকল্পনায় স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় নগরবাসীর জন্য নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে বহুমুখী এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে ডিএনসিসি এলাকাকে যানজটমুক্ত করতে চাই। যদিও এই একটি প্রকল্প দিয়ে ডিএনসিসিকে শতভাগ যানজটমুক্ত করা সম্ভব নয়। কারণ আশপাশের এলাকার যানজটের প্রভাব ডিএনসিসি অঞ্চলেও পড়ে। তবে যানজট এবং জলজট নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, রাজধানীর খালগুলোর দায়দায়িত্ব ওয়াসার কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার পর সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে খাল উদ্ধার করা হয়েছে। এতে এবারের বর্ষায় নগরীর জলাবদ্ধতা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় কমেছে। নগরবাসীকে বাসযোগ্য নগরী উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে যত ধরনের সেবা দরকার, তার সবই পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীন এবং অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ বছরই শুরু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদের প্রকল্পের কাজ আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৭১ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার। বাকি ১৯৩ কোটি টাকা সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জোগান। প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- ১২২ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন, ২২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ এবং সার্ভিস প্যাকেজ উন্নয়ন, ৮০ কিলোমিটারের বেশি ফুটপাত নির্মাণ ও ছয়টি দৃষ্টিনন্দন আর্চ ব্রিজ নির্মাণ।