| মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২ | প্রিন্ট | ২৫৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নাজনীন মর্তুজা’র গল্প “তুমি আমি আর করোনা “
একটু নাটকীয় একটু যাত্রার ঢঙ্গে –
নায়িকার শরীর পালঙ্কে নেতিয়ে আছে
উ: আর সহ্য হয় না । এমন গলা ব্যথা আর সহ্য হয় না । সহ্য কত্তে পারছি না প্রভু । – হা দগ্ধ প্রাণ ! – হা অভাগী করোনা তুই কেন এই অভাগীর দেহে বাস কচ্চিস? প্রাণেশের অদর্শনে যদি তোর কষ্ট না হয়ে থাকে , তবে তুই এখনই আমার পাপ দেহ পরিত্যাগ কর । দয়া করে হতভাগিনীর শ্বাসকষ্ট নিবারণ করো । করোনা একবার দয়া করে দেখা দাও ,- তোমার তেতলা কদম শরীর দর্শন করে দাসীর তাপিত প্রাণ শীতল করো করোনা দয়া করো ।
নায়ক পায়াচারি করছে নায়িকার বিছানার পাশে —
নায়ক- উ: কি বিপদ ! এমন বিপদে মানুষ পড়ে গা? যা ভেবেছিলাম তাই ঘটলো? এখন তো আমার উভয় সংকট । গতমাসে শ্যালিকাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি , এদিকে তোমার প্রাণ যায় । অন্য কোন নারীকে আস্কারা দিলে সংসার চলে না , তুমি যে রকম হয়ে গেছো গিন্নি তাতে দিনকতক টিকবে কিনা কে জানে । বিষম বিভ্রাট। কি করে নিজের জন্য করোনাকে বস করবো তাই ভাবছি ! 🤔
নায়িকা – হা- স্বামী ! আজ তোমার প্রাণের স্ত্রী তোমার হৃদয় পিন্জর থেকে উড়ে যায় – শ্বাস ডুবে যাচ্ছে – প্রাণপাখিটার ডানা নড়ছে , এখুনি উড়বে । স্বামী ধর ধর – এই উড়াল ( হাত বাড়িয়ে) – ও: (মূর্চ্ছা)
নায়ক – (স্বব্যস্তে) ও মা ! একি হলো ? ও গিন্নী এমন হলে কেন ? একবার জান বলে ডাকো । জান বলে ডাকবার যে আর কেউ রইল না । একবার জান বলে ডাক গি….,,ই…..ন্নী !
নায়িকা- ( চোখ অর্ধ মেলা অবস্থায়) আহ! উ:! শ্বাস কষ্ট ! কোথায় তুমি ! ও: পুরুষের প্রাণ কি কঠিন ? অবলা বধে কত তৎপর ! বুঝেছি সব । ওগো সুখে মরবার মতো সময় টুকু তো দেবে ।
নায়ক – ( অল্প ক্রোধে) বলি ও ময়না পাখি ও আহ্লাদি! তোর এসব রকম কি বল দেখি ? ভালো মানুষের যুগ নেই ।
নায়িকা- হা বিধাতা হা করোনা উঠিয়ে নাও , মাত্র নটা দিন .. যা ন বছরে দেখিনি ঠাকুর । আজ বুঝলাম কতখানি দামী আমি ন দিনে যেন জীবন চাইনা অবস্থা । করোনা উঠিয়ে নাও
আর জীবন চাইনা অনাদরে । বেশ করেছো আমাকে ধরে ।
নায়ক – (মনে মনে )আহা ! মরণ ভিক্ষা চেয়ে প্রাণটা শীতল কল্লে রে । মনে মনে কবিতা আওড়াতে লাগলেন বিকৃতস্বরে – হত্তা কত্তা বিধাতা করেছি , করোনাকে কটাক্ষ করেছি , কিন্তু আজ গিন্নীকে করোনা ছুঁয়েছে , ওর নিউমোনিয়া হয়েছে ।
গিন্নীর কাছে এসে ওগো! তুমি অমন করছো কেন ? আমি অন্য কিছু চাইনা জগতে তুমি বিনে । বলো তুমি ফিরে আসবে জীবনে । আমার উৎকণ্ঠা নিবারণ করো প্রিয়া । করোনা কিছু না । ভয় পেয়ো না ।
মনে মনে বলছে – এ বড় বিষম কথা – সত্য বলছি – কি করি আর ! মর বেটি নেকি । তুই মরলে আমি আমার মন পসন্দ সখিকে ঘরে আনতে পারি । দিন রাত্তির আর প্যানপ্যান ভালো লাগে না । (নায়কের রুম ত্যাগ )
নায়িকা- হা ভগবান কেন আমাকে নারীরুপে সৃজন করলে! সবার অবহেলা ভোগ করবার জন্যই কি আমাকে এনেছ ভবে ।
ওগো এসো পাশে বসে যাও শেষ বার ছুঁয়ে দিয়ে চলে যাই ।
আহা এই মুখ এই বুক আমার ছিল জানতাম
এখন ঢেরবুঝি এই বুকে কার বাস আর কার বনবাস । ভালো থেক তুমি তোমরা
তোমার ঠোঁটে একটা মাত্র চুম্বন করতে চাই প্রিয়
দাও ঠোঁট । ও: আহ: ! দিলাম বিষ ভালোবাসার
বলতেই হাত পরে গেল বিছানায় প্রাণপাত।
নায়ক – আহ করোনা! আমি যা ন বছরে পারিনি তুমি ন দিনে অক্কা পাইয়ে দিলে । আমি মুক্ত গীত গাইবো পাশা খেলিব, নারী নাচাইবো কে পারে রুধিতে আমাকে । বেরো বেটি আমার বাড়ি থেকে বেরো!
একি আমার শরীর এমন করছে কেন , গলায় কে যেন ব্লেড চালিয়ে যাচ্ছে । অামি তো চিৎকার করিনি ।
ওরে কে কোথায় আছিস … আমার গলা ব্যথা করছে যোষ্টি মধু এনে দে চিবোই খানেক ।
আ: আর পারছি না গায়ে এতো তাপ জ্বর জ্বর লাগছে ।
আমাকে শুতে দে ….পিশাচী – নারকী- রাক্ষসীকে চিতায় তুলে আয় ।
যা বিছানা খালি করে দে , আমি পা এলিয়ে ঘুমোবো।
(গৃহপরিচারিকা কে তলব)
ও নলিনী আয় কাছে আয় গতর ঠেসে দে ।
আমার কেমন গা গরম গরম
তোর গায়ে হেলান দিয়ে সুখ পোহাইতে মন চাইছে । উ: নলিনী। আয় … আয় কাছে আয় ।
নলিনীর সমর্পণ – কি গো বাবু পুরোণ সিদ্ধা ! গুণ করেছো আমাকে ! বুডো় প্রাণে এত্তো রস তোমার । এসো তোমায় ভালো করে সোহাগ করি ।( নলিনীর চুল আকর্ষণ) তোর গায়ে আমার নেশা জেগেছে রোস আমি নেশা টেনে নিই ।
নায়ক – বল আমায় ছেড়ে যাবি না কোথাও ?
নলিনী- যাব নদীতীরে শীতল বাতাস সেবনে ।প্রণয় কাকে বলে জান্তাম না । তুমি শেখালে , আর আমি জানলাম । প্রণয়ের যত্ন জেনেছি । কেমন করে রক্ষা করতে হয় তাও জেনেছি । আমি প্রণয়ী তোমার । ভয় ছিল তোমার গিন্নী কুহকিনী রাক্ষসীর নজর বাঁচিয়ে আমার প্রেমকে রক্ষা করেছি ।
নায়ক – ও নলিনী আমার গা গুলাচ্ছে শ্বাস কষ্ট হচ্ছে । আমাকে কি শেষ চুম্বনে রাক্ষসী করোনা পাচার করে গেল … আহ আর পারি না যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে । কি রে কে আছিস , রাক্ষসীর চিতায় আগুন নিভেছে তো ঠিক মতো ।
ও নিলীনি কাছে আয় সোহাগ কর । আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে কেন ? আমি কি তোর সাথে সুখ করতে পারবো না ।
করোনা রক্ষা করো মা !
কি মধু তোমার ঠোঁটে নলিনী । আহা মৃত্যুও মধুর এখন ।
নলিনী- যেন এক মুহুর্তেই বিকার রোগীর শীতল বারিপানে তৃষ্ণাবৃদ্ধি হতেই চলেছে । কোথায় রাখি , বক্ষে, না মাথায় ।
নলিনীর সরল মনে ধরা পরেছে … করোনা যে
মৃত্যু অবশ্যই । আমিও যে তবে শেষ । একি ! আমিও যে প্রণয়ের স্পর্শে চুম্বনে বিপদে পড়েছি । খুন করলে রে বাবু ! আমাকেও তোমাকেও ও তাকেও।
নায়ক – নিলিনী অামি হত্তা কর্তা বিধাতাকে মানিনি , প্রেমকে অবজ্ঞা করেছি । তাই করোনা আমাকে ছাড়েনি । আমাকে স্পর্শ করো না । একা থাকতে দাও ।
নলিনী- আর অধিক বাক্য ব্যয় এ কাজ কি । মনের ভ্রান্তি হলে কিছুই জ্ঞান থাকে না । আমি।সতর্ক ছিলাম না । তাই নিরাপদ নই আজ । আমিও যে করোনার কাছে পরাজিত । আত্ম ঘাতিনি হোলাম ।
নায়ক – নলিনী ….. নলিনী…. নলিনী পানি দাও শ্বাস নিতে পারছি না । ডুবে যাচ্ছি । কেউ যেন ডুবিয়ে দিচ্ছে নদী গর্ভে ।
আহ …. পানি দাও পানি দাও নলিনী।
আ: আ: উ: !
শরীরটা পড়ে রইল বিছানায় । শুন্য ঘর শূন্য উঠান । লাশ চিতায় তোলার লোক নেই ।
করোনাতংকে।
নলিনী – ধীর পায়ে নদীপাড়ে গিয়ে নৌকায় শুয়ে পড়লো , নীল আকাশ কে বল্লো …
নয়ন আমার অধিন যার
করোনা তাহার অধীন জন
যাহ রে । অন্তরে জনম তরে
চাহেনা নলিনী পাপজীবন ! !
তিন চিতার আগুনে নদীপাড় আলোকিত হলো ।নিা“তুমি আমি আর করোনা “
একটু নাটকীয় একটু যাত্রার ঢঙ্গে –
নায়িকার শরীর পালঙ্কে নেতিয়ে আছে
উ: আর সহ্য হয় না । এমন গলা ব্যথা আর সহ্য হয় না । সহ্য কত্তে পারছি না প্রভু । – হা দগ্ধ প্রাণ ! – হা অভাগী করোনা তুই কেন এই অভাগীর দেহে বাস কচ্চিস? প্রাণেশের অদর্শনে যদি তোর কষ্ট না হয়ে থাকে , তবে তুই এখনই আমার পাপ দেহ পরিত্যাগ কর । দয়া করে হতভাগিনীর শ্বাসকষ্ট নিবারণ করো । করোনা একবার দয়া করে দেখা দাও ,- তোমার তেতলা কদম শরীর দর্শন করে দাসীর তাপিত প্রাণ শীতল করো করোনা দয়া করো ।
নায়ক পায়াচারি করছে নায়িকার বিছানার পাশে —
নায়ক- উ: কি বিপদ ! এমন বিপদে মানুষ পড়ে গা? যা ভেবেছিলাম তাই ঘটলো? এখন তো আমার উভয় সংকট । গতমাসে শ্যালিকাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি , এদিকে তোমার প্রাণ যায় । অন্য কোন নারীকে আস্কারা দিলে সংসার চলে না , তুমি যে রকম হয়ে গেছো গিন্নি তাতে দিনকতক টিকবে কিনা কে জানে । বিষম বিভ্রাট। কি করে নিজের জন্য করোনাকে বস করবো তাই ভাবছি !
নায়িকা – হা- স্বামী ! আজ তোমার প্রাণের স্ত্রী তোমার হৃদয় পিন্জর থেকে উড়ে যায় – শ্বাস ডুবে যাচ্ছে – প্রাণপাখিটার ডানা নড়ছে , এখুনি উড়বে । স্বামী ধর ধর – এই উড়াল ( হাত বাড়িয়ে) – ও: (মূর্চ্ছা)
নায়ক – (স্বব্যস্তে) ও মা ! একি হলো ? ও গিন্নী এমন হলে কেন ? একবার জান বলে ডাকো । জান বলে ডাকবার যে আর কেউ রইল না । একবার জান বলে ডাক গি….,,ই…..ন্নী !
নায়িকা- ( চোখ অর্ধ মেলা অবস্থায়) আহ! উ:! শ্বাস কষ্ট ! কোথায় তুমি ! ও: পুরুষের প্রাণ কি কঠিন ? অবলা বধে কত তৎপর ! বুঝেছি সব । ওগো সুখে মরবার মতো সময় টুকু তো দেবে ।
নায়ক – ( অল্প ক্রোধে) বলি ও ময়না পাখি ও আহ্লাদি! তোর এসব রকম কি বল দেখি ? ভালো মানুষের যুগ নেই ।
নায়িকা- হা বিধাতা হা করোনা উঠিয়ে নাও , মাত্র নটা দিন .. যা ন বছরে দেখিনি ঠাকুর । আজ বুঝলাম কতখানি দামী আমি ন দিনে যেন জীবন চাইনা অবস্থা । করোনা উঠিয়ে নাও
আর জীবন চাইনা অনাদরে । বেশ করেছো আমাকে ধরে ।
নায়ক – (মনে মনে )আহা ! মরণ ভিক্ষা চেয়ে প্রাণটা শীতল কল্লে রে । মনে মনে কবিতা আওড়াতে লাগলেন বিকৃতস্বরে – হত্তা কত্তা বিধাতা করেছি , করোনাকে কটাক্ষ করেছি , কিন্তু আজ গিন্নীকে করোনা ছুঁয়েছে , ওর নিউমোনিয়া হয়েছে ।
গিন্নীর কাছে এসে ওগো! তুমি অমন করছো কেন ? আমি অন্য কিছু চাইনা জগতে তুমি বিনে । বলো তুমি ফিরে আসবে জীবনে । আমার উৎকণ্ঠা নিবারণ করো প্রিয়া । করোনা কিছু না । ভয় পেয়ো না ।
মনে মনে বলছে – এ বড় বিষম কথা – সত্য বলছি – কি করি আর ! মর বেটি নেকি । তুই মরলে আমি আমার মন পসন্দ সখিকে ঘরে আনতে পারি । দিন রাত্তির আর প্যানপ্যান ভালো লাগে না । (নায়কের রুম ত্যাগ )
নায়িকা- হা ভগবান কেন আমাকে নারীরুপে সৃজন করলে! সবার অবহেলা ভোগ করবার জন্যই কি আমাকে এনেছ ভবে ।
ওগো এসো পাশে বসে যাও শেষ বার ছুঁয়ে দিয়ে চলে যাই ।
আহা এই মুখ এই বুক আমার ছিল জানতাম
এখন ঢেরবুঝি এই বুকে কার বাস আর কার বনবাস । ভালো থেক তুমি তোমরা
তোমার ঠোঁটে একটা মাত্র চুম্বন করতে চাই প্রিয়
দাও ঠোঁট । ও: আহ: ! দিলাম বিষ ভালোবাসার
বলতেই হাত পরে গেল বিছানায় প্রাণপাত।
নায়ক – আহ করোনা! আমি যা ন বছরে পারিনি তুমি ন দিনে অক্কা পাইয়ে দিলে । আমি মুক্ত গীত গাইবো পাশা খেলিব, নারী নাচাইবো কে পারে রুধিতে আমাকে । বেরো বেটি আমার বাড়ি থেকে বেরো!
একি আমার শরীর এমন করছে কেন , গলায় কে যেন ব্লেড চালিয়ে যাচ্ছে । অামি তো চিৎকার করিনি ।
ওরে কে কোথায় আছিস … আমার গলা ব্যথা করছে যোষ্টি মধু এনে দে চিবোই খানেক ।
আ: আর পারছি না গায়ে এতো তাপ জ্বর জ্বর লাগছে ।
আমাকে শুতে দে ….পিশাচী – নারকী- রাক্ষসীকে চিতায় তুলে আয় ।
যা বিছানা খালি করে দে , আমি পা এলিয়ে ঘুমোবো।
(গৃহপরিচারিকা কে তলব)
ও নলিনী আয় কাছে আয় গতর ঠেসে দে ।
আমার কেমন গা গরম গরম
তোর গায়ে হেলান দিয়ে সুখ পোহাইতে মন চাইছে । উ: নলিনী। আয় … আয় কাছে আয় ।
নলিনীর সমর্পণ – কি গো বাবু পুরোণ সিদ্ধা ! গুণ করেছো আমাকে ! বুডো় প্রাণে এত্তো রস তোমার । এসো তোমায় ভালো করে সোহাগ করি ।( নলিনীর চুল আকর্ষণ) তোর গায়ে আমার নেশা জেগেছে রোস আমি নেশা টেনে নিই ।
নায়ক – বল আমায় ছেড়ে যাবি না কোথাও ?
নলিনী- যাব নদীতীরে শীতল বাতাস সেবনে ।প্রণয় কাকে বলে জান্তাম না । তুমি শেখালে , আর আমি জানলাম । প্রণয়ের যত্ন জেনেছি । কেমন করে রক্ষা করতে হয় তাও জেনেছি । আমি প্রণয়ী তোমার । ভয় ছিল তোমার গিন্নী কুহকিনী রাক্ষসীর নজর বাঁচিয়ে আমার প্রেমকে রক্ষা করেছি ।
নায়ক – ও নলিনী আমার গা গুলাচ্ছে শ্বাস কষ্ট হচ্ছে । আমাকে কি শেষ চুম্বনে রাক্ষসী করোনা পাচার করে গেল … আহ আর পারি না যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে । কি রে কে আছিস , রাক্ষসীর চিতায় আগুন নিভেছে তো ঠিক মতো ।
ও নিলীনি কাছে আয় সোহাগ কর । আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে কেন ? আমি কি তোর সাথে সুখ করতে পারবো না ।
করোনা রক্ষা করো মা !
কি মধু তোমার ঠোঁটে নলিনী । আহা মৃত্যুও মধুর এখন ।
নলিনী- যেন এক মুহুর্তেই বিকার রোগীর শীতল বারিপানে তৃষ্ণাবৃদ্ধি হতেই চলেছে । কোথায় রাখি , বক্ষে, না মাথায় ।
নলিনীর সরল মনে ধরা পরেছে … করোনা যে
মৃত্যু অবশ্যই । আমিও যে তবে শেষ । একি ! আমিও যে প্রণয়ের স্পর্শে চুম্বনে বিপদে পড়েছি । খুন করলে রে বাবু ! আমাকেও তোমাকেও ও তাকেও।
নায়ক – নিলিনী অামি হত্তা কর্তা বিধাতাকে মানিনি , প্রেমকে অবজ্ঞা করেছি । তাই করোনা আমাকে ছাড়েনি । আমাকে স্পর্শ করো না । একা থাকতে দাও ।
নলিনী- আর অধিক বাক্য ব্যয় এ কাজ কি । মনের ভ্রান্তি হলে কিছুই জ্ঞান থাকে না । আমি।সতর্ক ছিলাম না । তাই নিরাপদ নই আজ । আমিও যে করোনার কাছে পরাজিত । আত্ম ঘাতিনি হোলাম ।
নায়ক – নলিনী ….. নলিনী…. নলিনী পানি দাও শ্বাস নিতে পারছি না । ডুবে যাচ্ছি । কেউ যেন ডুবিয়ে দিচ্ছে নদী গর্ভে ।
আহ …. পানি দাও পানি দাও নলিনী।
আ: আ: উ: !
শরীরটা পড়ে রইল বিছানায় । শুন্য ঘর শূন্য উঠান । লাশ চিতায় তোলার লোক নেই ।
করোনাতংকে।
নলিনী – ধীর পায়ে নদীপাড়ে গিয়ে নৌকায় শুয়ে পড়লো , নীল আকাশ কে বল্লো …
নয়ন আমার অধিন যার
করোনা তাহার অধীন জন
যাহ রে । অন্তরে জনম তরে
চাহেনা নলিনী পাপজীবন ! !
তিন চিতার আগুনে নদীপাড় আলোকিত হলো ।