সারাদেশ ডেস্ক | শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট | ১২৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
বিএনপির রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া শেখ হাসিনার অধীনে দেশে আর নির্বাচন হবে না। এই সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দিলে নির্বাচনে জিতে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। দেশের অর্থনীতি মেরামত করার জন্য সেই সরকার কাজ করবে। শনিবার নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বলছেন দেশে দুর্ভিক্ষ হবে। এটা হলে তাঁর সব দায় শেখ হাসিনা ও তার সরকারের। চিলমারীর বাসন্তীর উদাহরণ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, চুয়াত্তরেও দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। আপনারা বলেন, মধ্য আয়ের দেশ হয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া হয়ে গেছে। আর এখন মানুষ খাবার পায় না। ১০ টাকা কেজির চাল কিনতে হয় ৯০ টাকায়। ডিমের ডজন ১৩৫-১৪০ টাকা। চিনির দাম ১৩০ টাকা। কী খেয়ে থাকবে মানুষ? শেখ হাসিনা বলছেন, ধৈর্য ধরেন। আমরা কেমন করে ধৈর্য ধরব?
মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা বলছেন দিনের বেলা বিদ্যুৎ দেবেন না। অথচ ধরে ধরে চিতল মাছ খাচ্ছেন। ঘন ঘন বিদেশ যাচ্ছেন। আরাম-আয়েশ করছেন। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের চরিত্র। আওয়ামী লীগ নতুন বুলি দিচ্ছে জঙ্গিবাদ। তাদের নাকি দমন করা হবে। কিন্তু আপনাদের এই জঙ্গিবাদ অস্ত্র ভোঁতা হয়ে গেছে। এই বয়ানে আর কাজ হবে না।
তিনি বলেন, এই সরকার মিথ্যা বলে। মানবাধিকার নিয়ে যে রিপোর্ট দেয় তা মিথ্যা। নির্বাচনে জোর করে ভোট নিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু এখন মানুষ এসব রুখে দেবে। বন্দুক, পিস্তল, লাঠি, রিভলবার সব ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে মানুষ জেগে উঠেছে। বাংলার মানুষ আর একবার বাংলাদেশকে স্বাধীন করবে। সেখানে কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে। তিনি বলেন, আলেম-ওলামারা যারা ধর্মের মধ্য দিয়ে সঠিক পথ দেখান তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন।
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সংসদ সদস্য ও দলের যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জামিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল ইসলাম রিজু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম জিলানী, কৃষক দলের মহাসচিব শহিদুল ইসলাম (বাবুল), রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, বিএনপি নেতা হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেশের মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপির ভিত্তি হচ্ছে জনগণ। রংপুর বিভাগের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এই বিপ্লব কেউ থামাতে পারবে না। আমরা চাই বিপ্লবের মধ্যে শেখ হাসিনার পতন ঘটানো। তিনি বলেন, আগামীতে শেখ হাসিনা দুর্ভিক্ষ দেখতে পাচ্ছেন। একটা কথা পরিস্কার বলি, দুর্ভিক্ষ আসার আগেই বিদায় করে দেব। আগেও আওয়ামী লীগের সময় দুর্ভিক্ষ হয়েছে। এবার আপনাকে সেটা করতে দেওয়া হবে না।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, চিড়া-মুড়ি নিয়ে গামছা বেঁধে আজকের সমাবেশের জন্য কর্মীদের অপেক্ষা শেখ হাসিনার জন্য বড় বার্তা। আওয়ামী লীগ মাথার ওপরে জোর করে বসে আছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ডাকাত সরদার। তাদের সরে যেতে হবে। মানুষ গণতন্ত্র উদ্ধারের লড়াইয়ে নেমেছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নেমেছে। কেউ আটকাতে পারবে না।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার বাধা দিয়েছে গণসমাবেশ। কোনো লাভ হয়নি। যত বাধা তত বেশি জনসমাগম।
সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ধর্মঘট দিয়ে মানুষের আসা বন্ধ করতে পারেননি। সমাগম দেখে মনে কম্পন তৈরি হয়েছে। ডিসেম্বরের ১০ তারিখের ১০ দিন আগে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নেব। আমরা দেখতে চাই, কীভাবে রোধ করেন।
মঞ্চে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য আসন সংরক্ষণ করা হয়। শুক্রবার রাত থেকেই সমাবেশে জড়ো হন হাজার হাজার নেতাকর্মী। রাতভর সেখানেই ছিলেন তাঁরা। ভোর থেকে বাড়তে থাকে জনস্রোত। যে যেভাবে পেরেছেন যোগ দিয়েছেন সমাবেশে। নানাভাবে সমাবেশে বাধা দেওয়া হলেও চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনার পর এবার রংপুরে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করতে সক্ষম হয় দলটি।
প্রায় ৯ বছর পর রংপুরে বিএনপি বড় সমাবেশ করল। এ দিন মিছিলে-স্লোগানে মুখর ছিল পুরো শহর। সমাবেশে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার এবং ধানের শীষসহ বড় বড় মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো বিএনপির নেতাকর্মীদের দখলে চলে যায়। শহরের দলীয় কার্যালয়ে বসে আওয়ামী লীগের নেতারা সমাবেশ পর্যবেক্ষণ করেছেন।