শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নড়াইলে কোটিপতির সঙ্গে লড়াই দুই লাখপতির

রাজনীতি ডেস্ক   |   বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৯০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহিত ছবি

নড়াইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এক কোটিপতির বিরুদ্ধে লড়ছেন দুই লাখপতি। এখানে প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির ও লোহাগড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সুলতান মাহমুদ বিপ্লব। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা হলফনামায় নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত ও সম্পদের হিসাব তুলে ধরেছেন প্রার্থীরা। তাঁদের হলফনামায় দেখা যায়, তিনজনই শিক্ষিত। তবে অর্থসম্পদে অনেক এগিয়ে রয়েছেন সুবাস চন্দ্র।

হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী সুবাস চন্দ্রের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে জমা অর্থ ২ কোটি ১৪ লাখ ৭ হাজার ৭৪৬ এবং স্ত্রী মিনতি বোসের নামে বিনিয়োগ ১ কোটি ৭১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ দম্পতির সম্পত্তির পরিমাণ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর তিন গুণের বেশি। এর মধ্যে সৈয়দ ফয়জুল আমিরের জমা অর্থ ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ৯১ এবং বিপ্লবের ব্যবসায়িক পুঁজি আছে ৬৯ লাখ টাকা।

হলফনামায় দেখা গেছে, কৃষি, বাড়ি-দোকান ভাড়া, শেয়ার, সঞ্চয়, ব্যাংক আমানতসহ বিভিন্ন খাত থেকে সুবাস চন্দ্রের বছরে আয় ৩৪ লাখ ৬৩ হাজার ৯৪৩ টাকা। তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৪১৭ টাকা। হাতে নগদ দেড় লাখ টাকা রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে সুবাস চন্দ্রের এক বিঘা কৃষি, ১৩ শতাংশ অকৃষি, স্ত্রীর নামে এক একর ৫ শতাংশ অকৃষি জমি, দোতলা বাড়ি ও একটি প্রাইভেটকার রয়েছে।
সুবাস চন্দ্রের প্রতিদ্বন্দ্বী লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমিরের বিভিন্ন খাত থেকে বছরে আয় ৬ লাখ ৮০ হাজার ১৯৬ টাকা। নগদ দেড় লাখ টাকা রয়েছে। স্ত্রীর নামে স্বর্ণ না থাকলেও নিজের রয়েছে ৩১ ভরি। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজের নামে তিন একর ৫০ শতাংশ কৃষি, ৩০ শতাংশ অকৃষি, বাগান-আবাসিক ও বাণিজ্যিক জমি ৩ একর ৫৬.৫ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ জমিতে রয়েছে দোতলা বাড়ি।

আরেক বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক শেখ সুলতান মাহমুদ বিপ্লব। বছরে তাঁর আয় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। নগদ আছে আড়াই লাখ টাকা। নিজের নামে পাঁচ ও স্ত্রীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
এদিকে, মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালামের চেয়ে সম্পদে এগিয়ে আছেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. গোলাম রসুল। হলফনামার তথ্যানুযায়ী বিভিন্ন খাত থেকে আব্দুস সালামের বছরে আয় যেখানে সাড়ে ৬ লাখ টাকা, সেখানে গোলাম রসুলের ৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আব্দুস সালামের রয়েছে নগদ আড়াই লাখ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। নিজের ২০ ও স্ত্রীর নামে ২৫ ভরি স্বর্ণ আছে। ব্যবসায় বিনিয়োগ ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কৃষি-অকৃষি মিলে ১৪ বিঘা জমি, ১ হাজার ২৫০ স্কয়ার ফুট করে চার তলা একটি বাড়ি ও ৬০ শতাংশ জমির ওপর ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে।

এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) গোলাম রসুলের নগদ ১৫ লাখ এবং আর্থিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ রয়েছে ৬১ লাখ ৯৫৭ টাকা। নিজের পাঁচ ও স্ত্রীর ২৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। এ দম্পতির কৃষি-অকৃষি মিলে রয়েছে প্রায় ৩৬ বিঘা জমি। একটি দোতলা ও একটি তিন তলা বাড়ি রয়েছে। তবে ব্যাংকে ঋণ আছে ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৪ টাকা।

গোলাম রসুল ২০১৬ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মিয়াজান আলীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পান। গতবারের মতো এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে গোলাম রসুল বিদ্রোহী হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল আলম। আগামী ১৭ অক্টোবর এখানে ভোট গ্রহণ হবে। দুই প্রার্থীর হলফনামায় দেখা গেছে, সহায়-সম্পদে কেউ কারও চেয়ে খুব একটা কম নন। তবে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দোকান থাকায় সম্পদে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল আলম। নিজে পিছিয়ে থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী স্ত্রীর নামে রেখেছেন অঢেল টাকা। বিভিন্ন খাত থেকে শফিকুলের বছরে আয় ১৫ লাখ ১১ হাজার ৯০৮ টাকা। ২১২ দশমিক ২৫ শতক কৃষিজমি, ঢাকায় চার বিঘা পতিত জমি, টঙ্গীতে দোকান, ঢাকার বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট ও পূর্বাচলে চার কাঠা জমি রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে শফিকুলের নগদ ৬১ লাখ ১১ হাজার ৮৬১, স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ, ব্যাংকে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৩৬ হাজার ১৩৯ টাকা, ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গাড়ি, ২০ হাজার টাকার অলংকার, স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও অন্যান্য ব্যবসায় পুঁজি রয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার।
হলফনামার তথ্যানুযায়ী, কৃষি, বাড়ি ভাড়া, শেয়ার, সঞ্চয়, ব্যাংক আমানত ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা থেকে আল-মামুনের বছরে আয় ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টাকা। ব্যাংকে নিজ নামে ৪৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৫ ও স্ত্রীর নামে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ২০০ টাকা, নিজের কাছে নগদ ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ১৭৫ ও স্ত্রীর কাছে আছে ১ লাখ টাকা। নিজের নামে সঞ্চয়পত্র না থাকলেও স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন ৮৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩৮ টাকার। আল-মামুনের স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার বিরামপুরে ১ দশমিক ৮৪৫ একর কৃষিজমি, বিরামপুরের দামচাইলে ১৫ দশমিক ২৫ শতক অকৃষি জমি, পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ায় রয়েছে পাঁচ শতক জমি ও সাড়ে আট শতক জমির ওপর দুটি বাড়ি।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন বলেন, আমি সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত। গাড়ি কেনা ও মেইনটেইন করার মতো অবস্থা নেই। এজন্য সব সময় রিকশায় চলতে পছন্দ করি। অন্যদিকে শফিকুল বলেন, পুরোনো ব্যবসার উন্নতি হয়েছে। রাজনীতি থেকে কিংবা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে বাড়তি সুবিধা নিয়ে আমি সম্পদ করিনি।
এ ছাড়া রাজবাড়ী জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাত প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে নুরজাহান বেগম এবং হামিদা বেগম পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহিলা উন্নয়ন সংস্থা ‘আলোর দিশারী’র নির্বাহী পরিচালক। হামিদা বেগম অবশ্য স্বীকার করেন, হলফনামায় পেশা গৃহিণীই থাকার কথা। ভিন্ন কিছু হলে উকিলের ভুলে হয়েছে।

হলফনামার তথ্যানুযায়ী চার প্রার্থী নির্ভরশীলদের আয়ের ঘর ফাঁকা রেখেছেন। অন্য তিনজনের দু’জনের বছরে আয় ৭৫ ও ৩০ হাজার টাকা করে। এর মধ্যে হামিদা বেগমের আয় ১ লাখ ২০, নগদ টাকা আছে ৮০ হাজার এবং ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা। আর নুরজাহান বেগমের আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে সার ব্যবসায়ী সাহানা বেগমের বছরে আয় ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৩৫ টাকা। নগদ টাকা আছে ৩২ লাখ ১৫১ ও ব্যাংকে জমা ৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৯ টাকা। যদিও তাঁর পূবালী ব্যাংকে সিসি ঋণ ৯ লাখ ৮৭ হাজার ২২১ ও গাড়ি ঋণ আছে ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৬ টাকা।
[প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন নড়াইল, মেহেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি]

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office