অনলাইন ডেস্ক | শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১ | প্রিন্ট | ১৪৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ছবি সংগৃহীত
ইরাকে সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে পোপ ফ্রান্সিস শিয়া ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ধর্মীয় নেতার সাথে বৈঠক করেছেন ইরাকের নাজাফ শহরে। পবিত্র নাজাফ শহরে আয়াতোল্লা তার বাসভবনে পোপের সাথে বৈঠক করেন।
পোপ ঐতিহাসিক এক সফরে ইরাকে গেছেন। গত কয়েক বছরে ইরাকে অন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষের মতো খ্রিস্টানরাও নানাভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছে। লাখ লাখ শিয়া মুসলিমদের ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতোল্লা আলি আল-সিসতানির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে দুই ধর্মীয় নেতা তাদের আলোচনায় শান্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
করোনা মহামারি শুরু হবার পর এটাই পোপের প্রথম বিদেশ সফর এবং এই প্রথম কোন পোপ ইরাক সফরে গেলেন। কভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বিবেচনায় নিলে এটাকেই এ যাবত পোপের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সফর বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্যাথলিক গির্জার ৮৪ বছর বয়স্ক এই ধর্মগুরু এর আগে সাংবাদিকদের বলেন যে, তিনি অনুভব করেছেন এই ‘প্রতীকী সফর’ করা তার ‘একটা কর্তব্য’। তিনি তার চারদিনের ইরাক সফরে বেশ কিছু স্থান পরিদর্শন করবেন।
দুই নেতা কী নিয়ে কথা বলেছেন?
ইরাকে ২০০৩ সালের মার্কিন নেতৃত্বাধীন দখল অভিযানের পর থেকে দেশটির সংখ্যালঘু খ্রিস্টানরা ব্যাপক সহিংসতার শিকার হয়েছে। গ্র্যান্ড আয়াতোল্লা আল-সিসতানি বলেছেন, ইরাকের আর সব জনগণের মত খ্রিস্টান নাগরিকদেরও শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে এবং তাদের পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে জীবন কাটাতে না পারার বিষয়টাতে তিনি উদ্বিগ্ন।
ইরাকের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে সহিংস একটা সময়ে দেশটির ‘সবচেয়ে দুর্বল এবং সবচেয়ে নির্যাতিত সম্প্রদায়ের মানুষের পক্ষ নিয়ে কথা বলার’ জন্য পোপ ফ্রান্সিস আয়াতোল্লাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তিনি বলেছেন, শিয়া নেতার শান্তির বার্তা ‘ইরাকের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব এবং সব মানুষের জীবনই যে পবিত্র ও মূল্যবান’ তা নিশ্চিত করেছে।
আয়াতোল্লা আল-সিসতানির সাক্ষাৎ পাওয়া খুবই বিরল, তিনি মানুষজনের সাথে সচরাচর দেখা করেন না। কিন্তু পোপের সাথে তিনি প্রায় ৫০ মিনিট ধরে কথা বলেছেন এবং এ সময় দুজনের কেউই মুখে মাস্ক পরেননি।
পোপ ফ্রান্সিস প্রাচীন উর শহর পরিদর্শন করবেন যে শহর ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি; এই তিন ধর্মের জন্যই পবিত্র স্থান। এখানে নবী আব্রাহাম (নবী ইব্রাহিম) জন্মেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। পোপের এই সফরে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রায় ১০ হাজার ইরাকী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও করোনাভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টার কার্ফ্যু জারি করা হয়েছে।
কয়েকটি শিয়া কট্টরপন্থী দল পোপের এই সফরের বিরোধিতা করেছে। তারা বলছে, পোপের এই সফর দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পশ্চিমের নাক গলানোর সামিল।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।