শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফওজিয়া সামাদ : একজন কিংবদন্তি নারীনেত্রী # সালাম মাহমুদ

  |   রবিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ৪৬৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

আকাশের চাঁদের মতো কিছু মানুষ আমাদের দৃষ্টি কেড়ে নেন এবং যুগযুগ ধরে অন্ধকারে আলোর মশাল প্রজ্জ্বলিত করে যান। এমনই একজন মহিয়সী নেত্রীর নাম বেগম ফওজিয়া সামাদ। তিনি বৃটিশ আমলে আসামের তৎকালীণ রাজধানী শিলং-এ ১৯২৯ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন। বাবা প্রয়াত সফর আলী এবং মা প্রয়াত আজিজুন নেছা। বাবা চাকুরী করতেন বৃটিশ সরকারের অধীনে উচ্চপদে। বাবা’র চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করার পর বেগম ফওজিয়া সামাদ সপরিবারে মাতৃভূমি সিলেটে চলে আসেন, সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার থইগাঁও গ্রামে।

বড় ভাইয়ের অনুমতি সাপেক্ষে বেগম ফওজিয়া সামাদ ১৯৪৬ সালে সিলেটে মুকুল ফৌজ গঠন করেন এবং মুকুল ফৌজের পরিচালক হিসেবে ছাত্র-ছাত্রী উভয় শাখারই দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দেন। পড়া-লেখা শেষে তিনি ১৯৪৭ সালে সিলেট গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুলে শিক্ষয়িত্রী হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। ১৯৪৭ সালে সর্বপ্রথম সিলেটে বেগম ফওজিয়া সামাদ-এর নেতৃত্বে এইডেড হাইস্কুলে তিনদিন ব্যাপী মুকুল ফৌজের সাহিত্য সম্মেলন ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে মুকুল ফৌজের সুনাম-সুখ্যাতি।

১৯৪৮ সালে এদেশের বিখ্যাত বীমা বিশেষজ্ঞ বিজিআইসি’র প্রতিষ্ঠাতা এম এ সামাদ-এর সাথে বেগম ফওজিয়া সামাদ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৪৯ সালে বেগম ফওজিয়া সামাদ এদেশের প্রথম শিশু-কিশোরদের নির্ভিক সাহিত্য পত্রিকা মাসিক ‘মিনার’ সম্পাদনা করেন। শিশু-কিশোরদের বিনোদন ও জ্ঞান বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে ‘মিনার’ ছিলো অনন্য। সে সময় ‘মিনার’-এ লিখতেন উভয় বাংলার তদানীন্তন অগ্রসারির মনীষি লেখকবৃন্দ। ‘মিনার’ কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছিলো শিশু-কিশোরদের প্রিয় সংগঠন ‘চাঁদের হাট’। আর এ চাঁদের হাটের নেতৃত্ব দিতেন বেগম ফওজিয়া সামাদ। উলে­খ্য যে, মিনার-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন এদেশের বিখ্যাত বীমা দার্শনিক এম এ সামাদ। একই সময় বেগম ফওজিয়া সামাদ সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন রেডিও পাকিস্তানে শিশু-কিশোরদের অনুষ্ঠান ‘খেলাঘর’ পরিচালনা করে । তারপর ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করতেন মহিলা বিভাগের অনুষ্ঠান ‘মহিলা মাহফিল’ । চাকুরিসূত্রে এম এ সামাদের সাথে চট্টগ্রামে যাওয়ার পর, ১৯৫৩ সালে নারী সমিতি গঠন করা হয় এবং তিনি সেক্রেটারী হিসেবে নির্বাচিত হন। অত্যন্ত সুনামের সাথে নারী সমিতি পরিচালনা করা অবস্থায় ১৯৫৬ সালে মাওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য মনোনীত হন এবং সাধ্যাতীত দায়িত্ব পালন করেন। চাকুরিসূত্রেই ১৯৬৩ সালে এম এ সামাদ-এর সাথে আবার ঢাকায় চলে আসেন।

১৯৭৩ সালে বেগম ফওজিয়া সামাদ বাংলাদেশের বিখ্যাত নারী সংগঠন ঢাকা লেডিজ ক্লাবের সভানেত্রীর গুরু দায়িত্ব হাতে নেন। সাংগঠনিক দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে লেডিজ ক্লাবে উন্নয়নের ধারা সূচনা করলেন। লেডিস ক্লাবের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য তিনি ঐতিহাসিক কাজ করে গিয়েছেন। আর্থিক আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে লেডিস ক্লাবের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন তিনি দ্বি-গুণ করে দিয়েছেন। ১৯৭৪ সালে জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশের কথা চিন্তা করে লেডিস ক্লাবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্ববীণা সঙ্গীত বিদ্যালয় । এখানে নৃত্যের শিক্ষক ছিলেন মো. আমানুল হক। নজরুল সংগীতের শিক্ষক ছিলেন খালিদ হোসেন। রবীন্দ্র সংগীতের শিক্ষক ছিলেন অজিত রায় এবং উচ্ছাঙ্গ সঙ্গীতের শিক্ষক ছিলেন উস্তাদ জাকির হোসেন। ১৯৮৪ সালে এম এ সামাদ জীবন বীমা করপোরেশনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের পদ হতে অবসরের পর একটি সাধারণ বীমা কোম্পানী গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর এ মূল্যবান সময়ে বেগম ফওজিয়া সামাদ প্রাণান্ত উৎসাহ এবং প্রেরণা দিয়ে এম এ সামাদকে কোম্পানী গঠনে সার্বিক সহযোগিতা করেন। ফলে বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারী সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান বিজিআইসি ১৯৮৫ সালের ২৯ শে জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে।

১৯৮৫ সালে বেগম ফওজিয়া সামাদ বঞ্চিত দরিদ্র শিশু-কিশোরদের শিক্ষা অর্জনের কথা চিন্তা করে ‘কুসুমকলি’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। ‘কুসুমকলি’ স্কুলের নয়টি শাখা রয়েছে। শাখাগুলো হলো, ঢাকার লালমাটিয়া এলাকায় দু’টি, ধানমন্ডির রায়ের বাজারে একটি, শ্যামলীতে একটি, ফার্মগেট ইন্দিরা রোডে একটি, রামপুরা উলন এলাকায় দু’টি, গিলগাঁও গোড়ান এলাকায় দু’টি । বেগম ফওজিয়া সামাদ-এর নেতৃত্বে এ ‘কুসুমকলি’ স্কুলের শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। পড়া-লেখা শেষে তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে, এমন স্বপ্নও দেখছে। বেগম ফওজিয়া সামাদের ইন্তেকালের পর এ ‘কুসুমকলি’ স্কুলের কোনো ক্ষতি যেনো না হয়, সে ব্যবস্থাও তিনি করে গেছেন। ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন এ দেশে বেগম ফওজিয়া সামাদ একজন কিংবদন্তি নারীনেত্রী হিসেবে। একটানা ৩৮ বছর, অর্থাৎ, তিন যুগের অধিক কাল লেডিজ ক্লাবের অপ্রতিদ্বন্দ্বি সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এক বিরল সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এক পুত্র ও তিন কন্যা এবং নাতি-নাতনী সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে বেগম ফওজিয়া সামাদ গত ২৫ এপ্রিল ২০১১ সালে সিঙ্গাপুরস্থ একটি হসপিটালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ফওজিয়া সামাদ-এর আজ ১০ম মৃত্যৃবার্ষিকী। আমরা সকলে তার আত্মার মাগফেরাত এবং জান্নাত-এ ফেরদৌস কামনা করি।

লেখক: প্রধান ব্যবস্থাপক, বিজিআইসি

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office