অর্থনীতি ডেস্ক | সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ৭১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
বাজারে কাগজের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রকাশনা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা। কাগজের দাম কমানোসহ বইমেলায় সরকারি নীতির অসঙ্গতি দূর করে একটি গ্রহণযোগ্য সমন্বিত নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা। তা না হলে সৃজনশীল বই ক্রেতার নাগালের বাইরে গেলে জাতি ক্রমশ মানসিকভাবে দেউলিয়া এবং দীনদরিদ্র হয়ে পড়বে। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে প্রকাশকদের সংগঠন সৃজনশীল প্রকাশক ঐক্য ‘কাগজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ও সংকট’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। এ সময় সংগঠনটির পক্ষে এসব দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন নাথ।
সংবাদ সম্মেলনে মিলন নাথ বলেন, ‘কাগজের অস্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশের পুরো প্রকাশনা সংশ্নিষ্ট সেক্টর বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। একইসঙ্গে যোগ হয়েছে ছাপার কাজে ব্যবহার হওয়া আমদানিনির্ভর প্লেটের দুষ্প্রাপ্যতা। জরুরি প্রকাশনায় উচ্চমূল্য দিয়েও মিলছে না এসব উপকরণ। এই অস্বাভাবিকতা এখন চরম পর্যায়ে। বর্তমান বাজারমূল্যে ছাপাকেন্দ্রিক কোনও কাজকর্মই করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ৮ মাসে ৮০ জিএসএম মানের কাগজের রিম ১৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০০ টাকা হয়েছে। কাগজের দামের এমন ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন প্রকাশকরা। দুশ টাকার মূল্যমানের একটি বই এখন চারশত টাকাও রাখা যাচ্ছে না। ঊধ্বগতির বাজারে উচ্চমূল্যের বই বিক্রি করব কাদের কাছে! মূল্যস্ম্ফীতিতে বই বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।’
মিলন নাথ বলেন, ‘সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, মননশীল জাতি গঠনে দেশে নতুন নতুন লেখক তৈরি এবং প্রতিষ্ঠিত লেখক ও চিন্তাবিদদের সৃজনকে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের কাছে শিক্ষা উপকরণ বই প্রস্তুত করেন প্রকাশকরা। বই ছাড়া মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন-অর্জন কোনোটাই সম্ভব নয়। অতিমাত্রায় কাগজের মূল্যবৃদ্ধিতে উচ্চমূল্যে বইকে বিলাসী পণ্য বানানো যাবে না। সৃজনশীল বই ক্রেতার নাগালের বাইরে থাকলে জাতি ক্রমশ মানসিকভাবে দেউলিয়া এবং দীন দরিদ্র হয়ে পড়বে। যদি এক বছর কোনো নতুন বই প্রকাশ না পায় তাহলে এর নেতিবাচক অপপ্রভাব আগামী পাঁচ বছরও মেটানো যাবে না। জাতি সাহিত্য উপকরণে পিছিয়ে পড়বে। তাই যারা কাগজের কৃত্তিম সংকট তৈরি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বইয়ের উৎপাদন ও মানোন্নয়নে এবং বইমেলার প্রতি সরকারি নীতির অসঙ্গতি দূর করে একটি গ্রহণযোগ্য সমন্বিত নীতি প্রণয়ন করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সময় প্রকাশনীর প্রকাশক ফরিদ আহমেদ, অনন্যা প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক, সমগ্র প্রকাশনীর প্রকাশক শওকত আলী, জাতী সাহিত্য প্রকাশের প্রকাশক কমল কান্তি দাশ, আবিষ্কার প্রকাশনীর প্রকাশক দেলোয়ার হোসেন, কাকলী প্রকাশনীর প্রকাশক একে নাছির আহমেদ সেলিম প্রমুখ।