অনলাইন ডেস্ক: | সোমবার, ০৯ অগাস্ট ২০২১ | প্রিন্ট | ১৯০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসার সামলানোর পাশাপাশি জাতির পিতার অনেক সময়োচিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গমাতার পরামর্শ আন্দোলন-সংগ্রামে গতির সঞ্চার করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার সহচর হিসেবে বঙ্গমাতা এক হাতে যেমন সংসার সামলেছেন, তেমনি অনেক সময়োচিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী রোববার বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পদক-২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার মা একদিকে সংসার সামলেছেন, অপরদিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক সময়ে যাতে হয়, তার ব্যবস্থা করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে এই দলকে বিশেষ করে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগ যেন সব সময় সঠিক পথে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলতে পারে, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। সমস্ত তথ্য বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জেলখানায় থাকা বাবার কাছ থেকে সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে এসে দলের নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজগুলো তিনি গোপনে করেছেন। এভাবেই তিনি তাঁর পুরো জীবনটাকে উৎসর্গ করেন আমার বাবা যে আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেন, সেই আদর্শের কাছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, কিন্তু কখনো রাজনৈতিক নেতা হতে হবে, রাজনীতি করে কিছু পেতে হবে, সে চিন্তা তাঁর (বঙ্গমাতার) ছিল না। কোনো সম্পদের প্রতিও তাঁর কোনো আগ্রহ ছিল না। এভাবেই নিজের জীবনকে তিনি গড়ে তুলেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমার মা খুনিদের কাছে নিজের জীবনভিক্ষা চান নাই। তিনি নিজে জীবন দিয়ে গেছেন। জাতির পিতার সিঁড়িতে পড়ে থাকা মৃতদেহ দেখে সোজা বলে দিয়েছেন, “তোমরা ওনাকে মেরেছ, আমাকেও মেরে ফেলো।” খুনিরা বলেছিল আমাদের সঙ্গে চলেন, “তোমাদের সঙ্গে আমি যাব না, তোমরা এখানেই আমাকে খুন করো,” খুনিদের বলে দেন তিনি। ঘাতকের বন্দুক গর্জে উঠেছিল, সেখানেই আমার মাকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করে।’