| বৃহস্পতিবার, ০৩ জুন ২০২১ | প্রিন্ট | ৩৫৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বানপ্রস্থ
বর্ণালী মিত্র
তোর বাবা যখন চলে গেলেন তখন তুই সবে আট ।
আর আমি সাঁইত্রিশ ছুঁই ছুঁই
আজ সেই তুইই ঊনত্রিশে পা দিলি ।
তোর জন্মদিনের পূজো দিয়ে ফিরে
ঠাকুরের ফুল ছোঁয়াবো তোর মাথায়
এমন সময় বড় অদ্ভুত এক উপহার চাইলি তুই।
এই ফ্ল্যাটে আমার হাত পা ছড়িয়ে থাকার কষ্ট
তোকে বড় যন্ত্রণা দিচ্ছে ।
নষ্ট হচ্ছে তোদের প্রাইভেসি ও
তাই বন্দোবস্ত করেছিস আমার বানপ্রস্থের _____
আমি যেন অ-রাজি না হই ।
তুই যাবি দেখা করতে মাঝেমাঝে
নিয়েও আসবি কখনো সখনো ____
আর কি কি যেন বলছিলি তুই
আমি আর শুনতে পাচ্ছিলাম না কিচ্ছু _____
আমার ক্লান্ত অস্থি মজ্জার রন্ধ্রে রন্ধ্রে তো কবেই
বাসা বেঁধেছে যন্ত্রণা কাতর একাকীত্ব
আমার হৃদয়ে বারবার আছড়ে পড়েছে
তীব্র দহনে নৈঃশব্দের হাহাকার।
তবু আমি তো শুধু তোকে আঁকড়েই
বাঁচতে চেয়েছিলাম
আঁকড়ে বাঁচতে চেয়ছিলাম এই খড়কুটো বাসাখানা।
হঠাৎ শুনি কালের দিগন্তে বাজছে কাঁসর ,
আমার হৃদয়ে বাজছে দুন্দুভি ।
এক ঔদাসীন্যের স্রোতস্বিনী তীরে
হঠাৎ ই আবিস্কার করলাম নিজেকে ।
অবগাহন করছি , অঞ্জলি ভরে নিবেদন করছি
আমার পূর্বাশ্রমের সব আবেগ , সব রিপু ।
দাদুর কাছে বহু আগে শুনেছিলাম বানপ্রস্থে নাকি
আর সব কঠিন নিয়মের সাথে
ধারন করতে হতো জটা , নখ , শ্মশ্রু ____
পালন করতে হতো দান ধর্ম ।
আমি নিঃস্ব হচ্ছি একটু একটু করে ,
তৈরি হচ্ছি বানপ্রস্থের জন্য ।
অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছি
এতোদিন আগলে রাখা আমার স্নেহ , আমার মমতা ,
আমার নখরে ফিরেছে শ্যেণ তীক্ষ্ণতা
আমি ছিঁড়ে ফেলছি সব বন্ধন ।
তীব্র নখরের আঘাতে ফালা ফালা করছি
আমার মাতৃ স্বত্তার অহংকার , কৃপনতা ।
পুড়িয়ে দিচ্ছি নিজেকে ফিনিক্সের মতো
আবার জন্মাবো বলে আগুনের গর্ভ থেকে ।
এবার আর শুধু তোর মা হয়ে নয় শুধু এক নারী হয়েই