শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নৌকাডুবি: ২২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় অনেকে

অনলাইন রিপোর্ট:   |   শনিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ১৩৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকাডুবির পর উদ্ধার অভিযানের চিত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকাডুবির ঘটনায় শনিবার সকালে একটি শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় ২২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা করেছে দমকল বিভাগ। তবে নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় এখনো সেখানে অবস্থান নিয়ে রয়েছে শত শত মানুষ।

শুক্রবার সন্ধ্যেবেলায় শতাধিক যাত্রীবাহী নৌকাটি একটি মালবাহী নৌযানের ধাক্কা লেগে নিমজ্জিত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”এই পর্যন্ত আমরা ২২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। আর কেউ নিখোঁজ আছে বলে আমাদের কাছে দাবি করেনি।”

নিখোঁজ থাকার তথ্য থাকলে তাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানানা। নিমজ্জিত নৌকাটির ভেতরে কারও মৃতদেহ নেই বলে তিনি বলছেন।

তবে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিক মাসুক হৃদয় জানিয়েছেন, এখনো অন্তত ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাদের স্বজনরা দাবি করেছেন।

তিনি জানাচ্ছেন, নৌকাটি একটি গভীর খালে ডুবলেও বর্ষাকালে সেখানকার বিল ও নদী মিলেমিশে যায়। ফলে মৃতদেহ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন স্বজনরা।

‘আল্লাহ আমাদের বাঁচাতে জেলেদের পাঠিয়েছিল’
‘দশ মিনিট দেরি হলে আমরা সবাই মারা যেতাম’
হাওরে বেড়াতে গিয়ে ট্রলার ডুবে মারা গেলো ১৭ জন
নৌকাডুবিতে স্বজন হারানো একজনের আর্তনাদ

downboat1

নৌকাডুবিতে স্বজন হারানো একজনের আর্তনাদ

যেখানে নৌকাডুবি হয়েছে, তার কাছাকাছি একটি নির্মাণাধীন সড়ক রয়েছে। বিজয়নগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের সঙ্গে সংযুক্তকারী এই সড়কের ওপরে এখন প্রশাসন, ফায়ারসার্ভিস এবং স্থানীয় শত শত মানুষ অবস্থান করছেন।

সাংবাদিক মাসুক হৃদয় বলছেন, ”শত শত স্বজন অপেক্ষা করছেন। তাদের অনেকের আত্মীয়স্বজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল রাত থেকেই তারা এখানে বসে রয়েছেন।”

শুক্রবার বিকালে সাড়ে চারটার দিকে চম্পকনগর ঘাট থেকে ১৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে ট্রলারটি রওনা হয়।

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিজয়নগরে লইছকা বিলে বালুবাহী একটি স্টিলের নৌকার সঙ্গে যাত্রীবাহী নৌকাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নৌকার পেছনে থাকা আরেকটি বালুবাহী ট্রলার ছিল, সেটিও এই নৌকাকে সজোরো ধাক্কা দিলে যাত্রীবাহী নৌকাটি উল্টে ডুবে যায়।

খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস। মধ্যরাতে সেটি স্থগিত করা হলেও শনিবার সকাল থেকে আবার শুরু করা হয়েছে।

downboat2

নৌকাডুবির পরপর ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় জনতাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন

ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী ছিল নৌকায়
যাত্রীবাহী নৌকায় ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

ডু্বে যাওয়া নৌকায় ছিলেন ফারুক মিয়া। তিনি সাংবাদিকদের বলছেন, ”নৌকাডায় অনেক মানুষ ছিল, জায়গা ছিল না, কোনমতে আমি ছ্যাওডা (নৌকার ছই বা ছাদ) ধরছি। ভিতরে যাওয়ার মতো কোন পরিবেশ নাই। একজনের সাথে একজন লাইগা ছিল, এত মানুষ। আমি সামনে ছিলাম, নীচ থেকে অনেক কষ্ট কইরা বাইর হইছি, আমি মারাত্মক ব্যথা পাইছি।”

নৌকার যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিক মাসুক হৃদয় জানাচ্ছেন, এমনিতে এসব নৌকায় ৭০/৮০ জন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে। তবে শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনেক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন, যেহেতু এইদিন অনেক চিকিৎসক ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে এখানে আসেন। ফলে এদিন ভীড় বেশি ছিল আর নৌকাটিতে ধারণক্ষমতা অনেক বেশি যাত্রী নেয়া হয়েছিল।”

”কয়েকজনের মৃতদেহের সঙ্গে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন আটকে ছিল, কারও কারণ শরীরের সাথে থাকা ব্যাগে ওষুধপত্র ছিল। বোঝা যাচ্ছিল তারা ডাক্তার দেখাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছিলেন।” বলছেন মাসুদ হৃদয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এই ঘটনায় সাতজনকে আসামী করে বিজয়নগর থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মীর্জা মোঃ হাসান।

তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বালুবাহী ট্রলারের চালক ও মালিক রয়েছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office