| বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০২২ | প্রিন্ট | ১৫৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যানজট || মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ
প্রিয় শহর ঢাকা শহর
নয়কো প্রিয় আজ
পরিচয় দিতে গেলে
মুখে থাকে লাজ!
রাস্তা জুড়ে গাড়ির বহর
দেখার কেহ নাই
মার্সিডিজ আর প্রাডো
কিংবা হাই ফাই।
মোটর বাইক লোকাল বাস
প্রাইভেটে ভরা
পুরান মডেল গাড়িগুলো
জরাজীর্ণ জড়া।
লালবাতি আর সবুজবাতি
এখন জ্বলে না
চার রাস্তার মধ্যখানে
ট্রাফিক থাকে না।
যে যার মত চালায় গাড়ি
নিয়ম- কানুন নাই
ট্রাফিক পুলিশ হাত বাড়িয়ে
করে খাই খাই!
তেল-গ্যাস ডিজেল পোড়ে
কোটি কোটি টাকার
নিশ্চয়তা দেয় না কেহ
ঘুরবে ইজি চাকার।
যানজটের কবল থেকে
মুক্তি মেলে না
পুলিশ খাটে, মানুষ খাটে
যুক্তি মিলে না।
বুদ্ধি করে ফ্লাইওভার
করলে সারি সারি
ইচ্ছে মত চালিয়ে যাবে
যে যার মত বাড়ি।
মেট্রোরেলের কাজ চলছে
অনেক বছর হলো
এসব দিয়ে ফ্রী ঢাকা
কেমনে পাব বলো?
এক্সটেনশন রোড হচ্ছে
হাজার কিলো জুরে
আসল কাজটি থেকে সবাই
থাকছে অনেক দূরে।
আসল কাজ বলছি-এবার
শোনো দিয়ে মন
যানজটের কবল থেকে
মুক্তি প্রয়োজন?
মুক্তি যদি চাও পেতে
অফিস সরাও আগে
ঢাকার বাইরে অফিসগুলো
ফোটাও মরুবাগে।
তিন কোটি মানুষ আজ
থাকছে ঢাকার ভিতর
আমলা, মন্ত্রী, সুশীল সমাজ
চোর বাটপার ইতর!
সবাই বলে আজব শহর
ঢাকা জেলার নাম
চলতে ফিরতে ঝরছে সবার
ইচ্ছে মত ঘাম।
বাস সিএনজি রিকশা ভাড়া
হাঁকায় ইচ্ছে মত
পেট ভরে না ‘অকেশনে’
খামখেয়ালি যত।
ইজিবাইকে অলি গলি
ছেয়ে গেছে আজ
রিকশার মাঝে ইঞ্জিন দিয়ে
ভোঁ ভোঁ আওয়াজ।
গ্রাম থেকে উঠে আসা
নাইকো লাইসেন্স
জ্ঞান বুদ্ধি পড়ালেখা
নাইরে সিক্স সেন্স।
ঢাকা শহর যেমনি আজব
আজব এসব মানুষ
সুশীল সমাজ নীরব সবাই
নাইরে তাদের হুঁশ।
ফ্যাক্টরি আর কারখানা
ঢাকার বাইরে দাও!
গার্মেন্টসগুলোর শ্রমিকদের
এগিয়ে নিয়ে যাও।
ফুটপাতের দোকানগুলো
জমিয়ে বেঁচাকেনা
যদিও তারা করছে সবাই
দারুণ লেনাদেনা।
সচিবালয়, আইন আদালত
ঢাকার বাইরে দিন
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
ঢাকার বাইরে নিন।
রেল স্টেশন বাস টার্মিনাল
নিতে হবে টঙ্গী
নইলে থাকবে নগর জুড়ে
হ য ব র ল ভঙ্গি।
পুরান ঢাকার অলি গলি
ভেঙ্গে করো সাফ
যদিও একাজ করা হবে
অনেক অনেক টাফ।
যানজটের কলঙ্ক
এবার মুছে দাও
স্বাচ্ছন্দ্যে – নিরাপদে
যদি থাকতে চাও!
পরিকল্পনাবিদ যারা
এবার দৃষ্টি দিন
নইলে জাতি করে ছাড়বে
কেবল অর্বাচীন!