শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যোগসাজশে ফোন ও এসএমএস করে বাড়ানো হয় ডিমের দাম

অর্থনীতি ডেস্ক   |   সোমবার, ২২ অগাস্ট ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৯৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহিত ছবি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে পুঁজি করে ফোন ও এসএমএস করে ব্যবসায়ীরা ডিমের দাম বাড়িয়েছেন। রোববার ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী, আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক মতবিনিময় সভায় এমন পর্যালোচনা এসেছে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতিটি ডিমের পরিবহন ব্যয় ৩ থেকে ৪ পয়সা বেড়েছে, যার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা ডিমপ্রতি দাম বাড়িয়েছেন ২ টাকা ৭০ পয়সা। ডিম ব্যবসায়ী সমিতিগুলো মোবাইল ফোনে মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে সারাদেশে ডিমের বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। এ কারণে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে খামারির কাছ থেকে কেনা মূল্যের সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে দামের পার্থক্য যাতে যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে, তা মানার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমিতির সভাপতি আমান উল্লাহ বলেন, তেজগাঁওয়ের আড়তগুলোতে প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ১৮-২০ লাখ ডিম বিক্রি হয়। যে ডিমগুলো সমিতির ৩৫ জন আড়তদার ও ২৫ জন খুচরা ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করেন। পরে কোম্পানি ও বিভিন্ন জেলার রেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাতে দাম নির্ধারণ করা হয় এবং এই দামটা বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান জানতে চান, হঠাৎ করে কেন প্রতিটি ডিমের দাম ২ টাকা ৭০ পয়সা বাড়ানো হলো। জবাবে আমান উল্লাহ বলেন, বিভিন্ন ডিম উৎপাদনকারী বড় কোম্পানিগুলো ৭ আগস্টের পর থেকে ডিমের বাড়তি দাম নির্ধারণ করতে শুরু করে। ডিমের দাম কীভাবে নির্ধারণ হয়- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিলাররা এসএমএসের মাধ্যমে তাঁদের ডিমের দাম জানান। এর ভিত্তিতে ব্যবসায়ী সমিতি দাম ঠিক করে। এএইচএম সফিকুজ্জামান তখন বলেন, এখন থেকে সমিতি এভাবে ডিম ও মুরগির দাম নির্ধারণ করতে পারবে না।

সভায় গত তিন-চার দিন ধরে ভোক্তা অধিদপ্তরের বাজার তদারকিতে পাওয়া ফলাফল তুলে ধরেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, তাঁরা অভিযানে গিয়ে দেখেছেন, অনেকে ক্রয়মূল্যের রসিদ সংরক্ষণ করেন না। বিক্রয়ের রসিদ নেই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকে বিক্রয়ের রসিদের কার্বন কপিও ছিঁড়ে ফেলেছেন। কারও কাছেই মূল্যতালিকা নেই। ৭ আগস্ট যে ডিমের দাম ছিল ৯ টাকা ৪০ পয়সা, তা হঠাৎ করেই ১১ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে গেল। এ দাম যোগসাজশ করেই বাড়ানো হয়।

এফবিসিসিআইর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেই এভাবে ডিমের দাম বেড়েছে। কারা এ বাজার নিয়ে খেলছে তাদের খুঁজে বের করা উচিত।

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমিতির সবাই মিলে যোগসাজশ করে এসএমএস এবং ফোনের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করেছে, যার প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন। কেউই ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ দেখাতে পারেনি।

ক্যাবের প্রতিনিধি জানান, ফিডের দাম এক বছর ধরে বেড়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে ডিমের দাম যতটুকু বেড়েছে, খামারি পর্যায়ে সেভাবে বাড়েনি।

ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, অর্গানিকের কথা বলে যাঁরা তিন গুণ দাম নিয়ে ডিম বিক্রি করছেন, তাঁদের তাঁরা মনিটর করছেন।

প্রসঙ্গত. গত সপ্তাহে ডিমের দাম হঠাৎ বেড়ে প্রতি হালি ৫৫ টাকা এবং প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা পর্যন্ত ওঠে। গত দু-তিন ধরে দর কিছুটা কমে প্রতি ডজন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office