শিরোনাম
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললেও কাটেনি অনিশ্চয়তা দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে এনবিআর গাজীপুরে আজও শ্রমিকদের বিক্ষোভ-অবরোধ, অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুর সীমান্তের ওপারের ইশারায় অনেকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সম্পাদক মখলিছুর রহমান নির্বাচিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও গ্যাস অনুসন্ধানে নরওয়ের সহায়তা চাইলেন স্পিকার চট্টগ্রামে তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এলডিসি উত্তরণে সিদ্ধান্তের মতোই ব্যতিক্রমী কৃতিত্ব দেখাতে হবে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাতে কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ

শিক্ষা বোর্ডের দাবিডিসি-ইউএনওদের ‘সাড়া না পাওয়ায়’ এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২১০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শিক্ষা বোর্ডের দাবিডিসি-ইউএনওদের ‘সাড়া না পাওয়ায়’ এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা যায়নি

ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বন্যায় ভাসছে দেশের বহু অঞ্চল। রাজধানীতেও টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এমন দুর্যোগেও এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলো।

এই সিদ্ধান্তের পর সোমবার (১৩ জুলাই) চরম ভোগান্তি পেরিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ১২ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের এমন ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ নেটিজেনরাও। বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী-অভিভাবক ও নেটিজেনরা তার পদত্যাগ চাইছেন। তবে পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) দায়ী করছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের দাবি, ডিসি ও ইউএনওদের কাছে নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিল শিক্ষা বোর্ড। অধিকাংশ ডিসি পরীক্ষা নিতে বাধা নেই বলে জানান। তবে কিছু জেলার ডিসি ও ইউএনও কোনো তথ্যই বোর্ডকে সরবরাহ করেননি। এতে পরীক্ষা স্থগিতের মতো সিদ্ধান্তও বোর্ডগুলো নিতে পারেনি।

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানও। অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই আবহাওয়া পরিস্থিতি খেয়াল রাখছিলাম। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে তাদের এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। তারা যদি জানাতেন যে, অমুক জেলায় পরীক্ষা গ্রহণের পরিস্থিতি নেই, তাহলে সেখানে স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসতো। কিন্তু সে ধরনের তথ্য আমরা পাইনি।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভারী বৃষ্টি আর দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রী নিজেও পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু জেলাগুলোর অবস্থা কোথায় কেমন, তা জানাটা জরুরি ছিল। সেজন্য সিদ্ধান্ত হয় যে, আবহাওয়া পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর ডিসি ও ইউএনওদের কাছে জানতে চাওয়া হবে, কোথায় কোথায় পরীক্ষা না নেওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ডিসি ও ইউএনওদের তেমন সাড়া মেলেনি। সেজন্য রাতে বাধ্য হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রোজী আকতার, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং হাতিয়ার ইউএনওকে মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডকে কোন প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদরের ইউএনও ফাতেমা তুজ জোহরা।

তিনি বলেন, পরীক্ষা স্থগিত বা কেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ডের। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সদর উপজেলার সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রটি সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার মধ্যে পড়েছে। তবে সেটি অন্যত্র সরানো হবে কি না, সে বিষয়ে বোর্ড থেকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

শিক্ষা বোর্ড স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদনের আলোকে পরীক্ষা স্থগিত করে- এমনটি উল্লেখ করা হলে ইউএনও বলেন, ‘এটি আমাদের করা হয়নি। তবে আজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি বোর্ডকে জানানো হবে।’

ফাতেমা তুজ জোহরা আরও বলেন, গতকাল পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ, এমন কোনো লিখিত প্রতিবেদন ছিল না। ভোর ৪টার পর থেকে বৃষ্টির কারণে আজ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এখন বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office