শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শুভ্রা নিলাঞ্জনা’র ছোট গল্প `ভাসালে আঁখিজলে`

শুভ্রা নিলাঞ্জনা   |   মঙ্গলবার, ০৪ মার্চ ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৩৯৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

অনেকদিন পর উজালার মনটা ভীষণ ভাবে খারাপ হয়ে গেল ।সারারাত ঘুমাতে পারেনি। দুচোখের পাতা ভারী হয়ে গেছে তবু ও ঘুমাতে পারে না। সারারাত ছটফট এক অস্তিরতার মাঝে কাটিয়েছে। যে মুখ সে কবে ভুলে গেছে সেই কবে কিশোরী বেলায়। সেই মুখটিই আবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে উজালার।

উজালা আবার প্রথম থেকে ভাবতে শুরু করল । সেই তার প্রথম জীবনের কথা ।উজালা তার মনের ডায়রি টা খুলে বসল অনেকদিন পর। উজালা ভাবছিল নিজের কথা। আমার জন্মের সময় আমার মা মারা যান। আমার বাবা কেন যে আমার নাম উজালা রেখেছিল আমি বুঝতে পারি না। এই পৃথিবীতে আসতে না আসতেই আমার মা চলে যান । আমি তো উজ্জ্বল করতে আসিনি কিছু তবু আমার নাম উজালা। মাঝে মাঝে আমি ভাবি আমার নাম আঁধার হলেই ভালো হত। আমার চেহারায় সবসময় একটা দুঃখী দুঃখী ভাব লেগে থাকে। আহা ! উ হু শুনতে শুনতেই মনে হয় আমার মুখের উপর এরকম একটা ছাপ পড়ে গেছে। যা আর কখনও মুছবে না। আমি আনন্দিত হলেও কোথা থেকে যেন মুখের উপর একটি দুঃখের ঝিলিক খেলে যায়।

আমি যখন এস,এস সি পরীক্ষা দেই তখন আমার বাবা ও আমাদের দুই ভাই বোন কে একা রেখে চলে যান মায়ের কাছে। তারপর আমি কিছু দিনের জন্য আমার কাকুদের বাসায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করি। এরপর আমি আমার দাদার কাছে চলে আসি ঢাকায় । এইখানেই আমার জিবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়। আমার দাদা বৌদি আমাকে খুব ভালবাসেন । তবু দুঃখ আমার পিছু ছাড়ে না। আসটে পৃষ্টে বেঁধে রাখে আমাকে।
আমার দুঃখের আরেক নাম উপল। আমি যখন ছোট তখন উপল কে একবার দেখেছিলাম। তখন থেকেই উপল কে দেখে মনে হয়ে ছিল । যেন অনেক কালের চেনা । সে কবে ঠিক ঠাক মনে নেই । তারপর কোথাকার জল কোথায় গড়িয়েছে ।মাঝ খান দিয়ে অনেকগুলি দিন,মাস।বছর পেরিয়ে গেছে। আবার যখন আমি দেখি উপল কে তখন আমি ২১ এর ছুঁয়ায়। উপল কে দেখার পর আমার যা হবার হল । আমার দুখি দুখি মুখে সুখী সুখী, খুশী খুশী , দু রকম ভাবেরই উদয় হল।

উপল কে দেখলেই ঐ দিন টা আমার খুব ভালো লাগে। পৃথিবীটাকে মনে হয় এতো সুন্দর কি করে হল? সৃষ্টি কর্তার প্রশংসা না করে আমি পারি না। আমি ভাবি আকাশের এতো নীল কি করে হল? সাগরের এতো জল কোথা থেকে এলো? সব কিছু আমার অবিশ্বাস্য রকমের ভালো লাগতে থাকে।কিছুদিন আগেও যে গুলি আমার মোটেই ভালো লাগতনা সেগুলি আমার ভালো লাগতে শুরু করল। সব জায়গায় ভালো লাগা মোমের মত গলে গলে পড়তে লাগলো।

আমি আধুনিক গানের খুব ভক্ত। মান্না দে ছাড়া আর কোন গান আমি শুনি না। রবীন্দ্র সঙ্গীত আমি কোন কালেই শুনি না ।ঘুম এসে যায়। সেই রবীন্দ্র সঙ্গীত আমি দিন রাত শুনি। আমি জানি উপল রবীন্দ্র সঙ্গীতের শিল্পী। অনেক চ্যানেলেই তার প্রোগ্রাম থাকে। যখন প্রচার হয় সেই মুহূর্তে আমি বাসায় থাকি না। আমার আর দেখা হয় না। আমি যে উপল কে এতো পছন্দ করি বা একতরফা ভালবাসি উপল তা জানে না। ইদানিং উপলের একটি সিডি বেরিয়েছে । ভারসিটি থেকে আসার পথে আমি কিনে এনেছি। সব গুলি প্রেম আর পূজা পর্যায়ের গান। আমার এই গান টি খুবই ভালো লাগে ।

মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘরে
একেলা রয়েছ নিরব শয়ন- পরে-
প্রিয়তম হে জাগো জাগো জাগো।
মিলাব নয়ন তব নয়নের ও সাথে
মিলাব এ হাত তব দক্ষিণ ও হাতে-
প্রিয় তম হে জাগো জাগো জাগো ।
একবার ,দুবার ,অনেক বার। খুব ছোট্ট করে আওয়াজ দেই।কেউ যেন না শুনতে পারে। আমি এতবার শুনি কেনও? একটা গানই কেন শুনি বার বার? ভয় আমার বৌদিদিকে নিয়ে। আমি আমার বৌদিকে বলি বউ দিদি। বউ দিদি আমার বয়স তা পেরিয়ে এসেছেন। বউ দিদির কাছে আমার সব কিছু জলের মত পরিষ্কার। মুস্কিল হল বউদিদি উপলের আবার কেমন রিলেটিভ। যদি বা কথাছল্লে উপল কোনদিন জেনে যায় আমি তাকে পছন্দ করি তাহলে আমি খুব লজ্জা পাব। তাই আমি কোনদিন আগ বাড়িয়ে জানতে চাই না উপলের কথা।বউ দিদি কখন উপলের কথা বলবে আমি আশায় আশায় থাকি। পিছনে পিছনে কতক্ষণ ঘুরঘুর করি, যদি কথায় কথায় এসে যায়।
মাঝে মাঝে আমি ভাবি বউদিদি কে বলেই ফেলি আমার কষ্টের কথা, আমার এক তরফা যন্ত্রণার কথা। কেন যে বেদনায় নীল হই উপলের কথা ভেবে ভেবে। কতদিন ভেবেছি আর ভাবব না। কেমন জানি নিজেকে বেহায়া বেহায়া মনেহয়।আমার যত গুলি বান্ধবীর অ্যাফেয়ার্স আছে শুনেছি ছেলেরাই বেশি ইন্টারেস্টেড ছিল। আমার বেলায় উল্টোটি কেনও যে হল ? এই কথা ভেবে ভেবে আমি বিমর্ষ হয়ে পড়ি।

এবার বই মেলায় বউ দিদির সাথে গিয়েছিলাম। আমারা যে খাবারের দোকা নটায় বসেছি , সেই দোকানটির নামটি অদ্ভুত। খাও খাও খানডেরাও ।নামটা দেখে আমার খুব হাসি পাচ্ছিল।আমি মনে মনে ভাবছিলাম সোরড অব টিপু সুলতান এর খানডেরাও চরিত্রটির কথা। খানডেরাও কি বেশি খেত ? আমি ঠিক মনে করতে পারছিলাম না। আমি আর বউ দিদি বসে বসে ফুচকা আর কোক খাচ্ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ উপল কে দেখতে পেলাম। বউদিদিকে দেখে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। বউদিদি উপল কে দেখে চেঁচিয়ে উঠলেন ,উপল এদিকে আস। উপল এসে নিস্তিন্ত মনে পাশের চেয়ার টায় বসে পড়ল । আমার যে কি হল কিছুই বুজতে পারলাম না। আমার হাতের কোকের গ্লাস টা হাত থেকে ছিটকে পড়ে গেল উপলের গায়ে। আমি নিমিষেই ওর সার্ট টা নষ্ট করে দিলাম। বউদিদি আমার আনারিপনার জন্য খুব না হলেও বিরক্ত হলেন। বউদিদি আমাকে বললেন কি ভাবে পড়ল উজালা?

আমি কিছু বলতে পারছিলাম না। শুধু সেই সময় উপলের শরীর থেকে মৃদু একটা গন্ধ ভেসে আসছিল। সেই গন্ধটায় আমি কেমন আচ্ছন্ন হয়ে পরছিলাম। আর ভাবছিলাম এই গন্ধের টানে আমি সাতসমুদ্র পারি দিতে পারব। আমি শুধু অসহায় চোখে একবার উপলের দিকে তাকালাম। মনপ্রান দিয়ে চেষ্টা করছিলাম স্যরি বলার জন্য। কিন্তু আমি বেরথ হলাম। আমার মুখ দিয়ে আমি একটা শব্দও বের করতে পারলাম না। ভিতরে ভিতরে আমার শব্দ গুলো তালগুল পাকিয়ে যাচ্ছিল। আমি নিজের উপর নিজে রেগে যাচিছলাম। উপল যদি আমাকে অহংকারী ভাবে এই ভেবে।

আমার মত অনেক মেয়ে উপলের সাথে ছবি উঠার জন্য ভীর জমায়। আর আমি এত কাছ থেকেও উপল্ কে কিছুই বলতে পারলাম না। তখন থেকেই আমি ধরে নিলাম আমার দ্বারা কিছুই হবে না। আমি একটা অপদার্থ। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম আগে আমাকে কথা বলা শিখতে হবে। এতো নার্ভাস হলে আমাকে চলবে না। ভিতরে ভিতরে আমি শক্ত হলাম পরেরবার চান্স টা যেন আমি মিস না করি।

আমার জানতে ইচ্ছে করে। উপল কি একবারও আমার কথা ভাবে?মনে মনে আমি উপল কে ভালবেসে ফেলেছি ।এই ভালবাসার কথা আমি নিজেও জানি না।কখন যে ভিতরে ভিতরে এতো বিরাট পরিবর্তন হয়ে গেছে। ঐ দিনের কথা মনে করে আমি খুব অস্বস্তি ফিল করছিলাম। কি ভাবে পড়ে গেল আমি কিছু বুঝার আগেই। আমি মনে মনে ভাবলাম একটা টি শার্ট গিফট করলে কেমন হয়? আমি ঠিক করলাম বউদিদি কে বলব আবার ভাবলাম বউদিদি কিছু ভাববেন না তো? আর ভাবলে ভাবুক এতো ভাবা ভাবির কি আছে? অপরিচিত তো আর নয়? না হয় আমি কথা বলিনা কিন্তু মনে মনে তো আমি সারাক্ষণই বলি ।
খু-উ-ব সাহস করে আমি একদিন বউদিদি কে বলে ফেললাম । বউদিদি আমি উপল কে একটা টি শার্ট গিফট করতে চাই। বউদিদি ডাগর ডাগর চোখ গুলি আরও বড় করে অবাক বিস্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন হঠাৎ কি ব্যাপার? আমি বললাম না এমনিতেই কোন ব্যাপার না মনে হল তাই। ঐ দিন আমি উনার শার্টটা নষ্ট করে দিলাম তাই।

আমি আমার বান্ধবী রুপাকে নিয়ে বসুন্ধরা শপিং মল থেকে আমার পছন্দ মতো রয়েল ব্লু একটা টি শার্ট নিলাম। আমি তখন স্বপ্নের নাগর দোলায় ভেসে ভেসে চলছি দিগন্ত বিস্তৃত জুড়ে। আমার স্বপ্নরা উপল্ কে নিয়ে খেলা করছে।আমি প্রান ভরে দেখছি। ভারী লেনসের ভিতর উপলের চোখ গুলি অদ্ভুত শান্ত আর মায়াবী। ওর কোঁকড়ানো ছুল গুলি ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করে। মনে হয় হাজার বছর উপল কে দেখলেও আমার আশ মিটবে না। আমার কাছে উপল্ কেই মনে হয় শ্রেষ্ঠ পুরুষ।

অবশ্য রুপার কাছে সৌরভ ই শ্রেষ্ঠ । রুপার নাকি হালকা ফর্সা ছেলে দেখলেও গা জ্বালা করে। কেমন বোকা বোকা মনে হয় ওর কাছে। আমার এরকম মনে হয় না। রুপা সব সময় উদ্ভট কথা বার্তা বলে। আমি বলি তাহলে তো ইউরোপের সব ছেলেরা বোকা। আর আফ্রিকার নিগ্রোরা সব বুদ্ধিমান। সৌরভ নিগ্রো না হলেও রং এর দিক দিয়ে কাছাকাছি। রুপার চোখে তাই আবার সবচেয়ে সুন্দর। কি জানি বুঝিনা কাউকে ভালবাসলে এমনই হয় মনে হয়।

আর একটু বয়স হলে বুঝতে পারব মনে হয়। আমার দাদা তো অনেক ফর্সা । বউ দিদি কে জিজ্ঞেস করব দাদাকে কেমন লাগে? আমার ভাবনায় ছেদ পড়ল বউদিদির ডাক শুনে। উজালা শুনে যাও। আমি বউদিদির কাছে গেলাম। বউদিদি বললেন ,সামনে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। তুমি যদি কাউকে বল বলতে পার। তখনি আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল জানার জন্য উপল আসবে কিনা? আমি কথা ঘুরিয়ে বললাম কাকে কাকে বলছ? বউ দিদি কয়েকটা নাম বললেন শুধু উপল ছাড়া। আমার আর কাউকে বলতে ইচ্ছে করল না। ভিতরে ভিতরে খুব ছটফট করছিলাম।

আমি এতো চাপা যে আগ বাড়িয়ে বলতে পারিনা কিছু। আমার নিজের খুব রাগ হয় নিজের উপর । কেন পারিনা? রুপা অবশ্য আমার এই মিনমিনে স্বভাব টা মোটেই পছন্দ করে না। ওর স্বভাব টা সবকিছুর মধ্যেই একটু বেপরুয়া ভাব । কাট কাট স্বভাবের । কি কারনে যে ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব হল। সবাইর অবশ্য অবাক লাগে। বিপরীত মেরুতে আমাদের অবস্তান। তারপরেও আমারা” জানি দোস্ত “, উপলের ব্যাপারটা একমাত্র রুপাই জানে। রুপা অবশ্য অনেকবার সাজেশন দিয়েছে আকাশকুসুম না ভেবে একটা সিদ্ধান্তে আসতে। ওর সব কমার্শিয়াল চিন্তা ভাবনা ।

আমি এতো বুঝিনা আমার মনেহয় সব কিছু একরকম হয় না। ও ওর মতো ভাববে। আমি আমার মতই ভাবব। । আমি অবশ্য ভাবি, সব কিছু বলতে হয় না।কিছু কথা বুঝে নিতে হয়। বুঝার মতো মন থাকা চাই । অন্তঃদৃষ্টি থাকা চাই ।একাগ্রতা থাকা চাই। উপলের উপর আমার এক একবার রাগ হয় ।আমি যে সারাক্ষণ উপলে ডুবে থাকি ও বুঝতে পারে না কেন ? আসলে উপলের দোষ দেওয়া যায় না । ওয়ান সাইড লাভ কি এইটাকেই বলে?

মাঝে মাঝে আমি নিজের সাথে বাজি ধরে হাজার বার জপের মালার মত উপল উপল জপতে থাকি। মানুষ ভিতর থেকে কিছু চাইলে নাকি হয়। কিন্তু আমার বেলা কিছু হয়না । আমি মন প্রান দিয়ে চাই ,প্রার্থনায় দুই হাত বাড়ীয়ে দিয়ে চাই। চোখের জলে চাই। প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে চাই। আমার সাথে আজ দেখা হউক। কিন্তু না হয় না। আমাদের বাসায়ও আসে না । দেখা গেল আমি যেদিন বাসায় নেই সেইদিন আসল।

অনেকদিন হয় আমদের সাথে উপলের কোন দেখা নেই ।বউ দিদি খোঁজ নিয়ে জানলেন দেশের বাইরে গেছে কয়েক দিনের জন্য। শুনে আমার খুব রাগ হল ।আমি একাই একাই অভিমানে ভেসে গেলাম। আমাদের একবার বলে গেলে কি এমন হতো? অবশ্য আমার সাথে হাতে গুনে কয়েক লাইন কথা ছাড়া এমন কোন সম্পর্ক হয় নাই যে বলে যেতে হবে? আমি উপলের ভাবনায় অস্তির সময় পার করি। মনে মনে ভাবি এইবার আসলে আমাকে বলতেই হবে। অনেকদিন ফোন হাতে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছি শেষ মুহূর্তে আর কল করা হয়নি। আমি যখন বিরহের দিন গুনছি হটাৎ ই একদিন উপল এসে হাজির। মেঘ না চাইতেই জল।

দেখার সাথে সাথেই আমি ফ্রিজ হয়ে গেলাম । উপল আমায় বলল কেমন আছ? আ্মি অনেক কষ্টে হেসে বললাম এই তো ভালো আছি। উপল তরবর করে বলল অনেক ঝামেলায় আছি । হটাৎ করেই বাসা থেকে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। কিছু বুঝে উঠতে পারছিনা কি করব ? দিদি কে বলতে আসলাম শপিং করতে হবে । তোমাকেও থাকতে হবে কিন্তু। প্রতিটি অনুষ্ঠানে আমি তোমাকে চাই ই চাই।

আমি কিছু শুনলাম কিছু শুনলাম না। আমি অনুভব করলাম পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে আমি অতল গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছি । আমার না বলা কোটি কোটি স্বপ্নরা নিঃসীম শূন্যতায় ভেসে যাচ্ছে। ডানা ভাঙ্গা আহত স্বপ্নরা ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যাচ্ছে বিশাল বিশাল ব্ল্যাক হোলের দিকে। আমার আর কিছু মনে নেই। যখন আমি চোখ মেলে তাকালাম দেখি হসপিটালের বিছানায় শুয়ে আছি।ভিতরে এক টানা একটা সুর বেজে চলছে ।

পরনি কাহারও নয়নের ভাষা
বুঝনি কাহাও মরমের আশা,
দেখনি ফিরে ,
না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখি জলে । উজালার দু চোখ জলে ভরে এলো।

 

 

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office