সারাদেশ ডেস্ক | সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২ | প্রিন্ট | ১৫০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
লোহাগড়ার দিঘলিয়া সাহাপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া গ্রামের প্রায় অর্ধেক নারী-পুরুষ ও শিশু এখনও বাড়িতে ফেরেননি। দিঘলিয়া বাজারের অনেক হিন্দু দোকানদার তাদের দোকানও খোলেননি।
মহানবী হযরত মোহাম্মদকে (সাঃ) নিয়ে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গত শুক্রবার হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। সেই রাতে সাহাপাড়ার প্রায় দেড়শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।
এ ঘটনায় লোহাগড়া থানার এসআই মকফুর রহমান বাদী হয়ে রোববার অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- চর মাউলি গ্রামের কবীর কাজী, দিঘলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী রাসেল মৃধা, সাইদ শেখ, রিজাউল শেখ ও মাসুমবিল্লাহ।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তেজিত জনতা দিঘলিয়া বাজারের ৬টি দোকান ভাঙচুর করে। তারা একটি মন্দিরে আগুন দেয় এবং তিনটি মন্দির ভাঙচুর করে। এছাড়া সাহাপাড়ার একটি বাড়িতে আগুন দেয় এবং পাঁচটি বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় এমপি, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন আছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও বাড়িঘর সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সাহাপাড়া গ্রামের মাতুব্বর ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সভাপতি শিবনাথ সাহা জানান, স্থানীয় লোকজন, দোকানদার ও আশপাশের মাদ্রাসার ছাত্ররা মিছিল ও ভাঙচুর করেছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বর ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তিনি জানান, বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও শট গানের গুলি ছোঁড়ে। তবে এখনো সাহাপাড়া ও আখড়াবাড়ি এলাকার শতাধিক হিন্দু পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অধিকাংশ পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুরা ভয়ে বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে বসবাস করছেন। সাহাপাড়ায় প্রায় ১০৮টি পরিবারের বসবাস। এর অর্ধেক পরিবারের লোক বর্তমানে পাড়ার বাইরে আছেন।
সোমবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। র্যাব টহল দিচ্ছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আবু হেনা মিলন জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।