রাজনীতি ডেস্ক | বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট | ২২৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল বিএনপি। এ বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর আজ দুপুরে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ করা হয়। এবার তার শেষবিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে আরও কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে দলটি। এ ঘটনায় যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গী অন্য দলগুলোর নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন।
এক সময় বিএনপির পরম বন্ধু ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক জানাতে অনেক গড়িমসি করেছেন দলটির নেতারা। পরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমালোচনার জেরে তার মৃত্যুর প্রায় ১২ ঘণ্টার পর বিএনপির পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়। এবার প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে আরও কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে দলটি।
বিএনপি নেতারা বলছেন, ২০১৮ সালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর একক প্রচেষ্টায় বিএনপির সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। তার প্রচেষ্টায় একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপেও অংশ নেয়। কিন্তু ২০২২ সালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দলের নেতৃত্বে নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন তিনি। যা বিএনপির শীর্ষ পর্যায় ভালোভাবে নেয়নি। এ কারণে গত কয়েক মাস ধরে বিএনপির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। তাই লন্ডন থেকে অনুমতি পাওয়া পর্যন্ত এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুতে শোক জানাতে সময় লেগেছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, আজ রাতে সাড়ে ৯টার দিকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে তার বাসায় যাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আর কাল শহীদ মিনারে তাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্রতিনিধি দল যাবেন। সেখান থেকে মির্জা ফখরুল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জানাজায় অংশ নেবেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, রাতে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বাসায় যাবেন। আর কাল মহাসচিবের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল শহীদ মিনারে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেখান থেকে তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জানাজায় অংশ নেবেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুতে বিএনপির শোক জানাতে সময় নেওয়ার বিষয়টিকে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের অনেকে ভালোভাবে নেয়নি। কারণ গত ৬-৭ মাস ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভালো না থাকলেও তিনি সবসময় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তার মতো একজন দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযোদ্ধা এবং বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষীর মৃত্যুতে শোক জানতে এতো কার্পণ্য দেখাতে হবে কেন?