নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ২১৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আমার ললাটে কোনো তিলক নেই, তবু আমি মধ্যাহ্নের সূর্যের মতোই দীপ্ত;
শহরের নর্দমা ঘেঁষা কুটিল চোখগুলো আমার একাকীত্বের গন্ধে লালা ঝরায়,
অথচ তারা জানে না— নরম মাটির মূর্তি নই ,বরং আগ্নেয়গিরির পাথর।
যেখানে সাহায্যের হাত আসার কথা ছিল, সেখানে কেবল উপদেশের আঙুল ওঠে;
সেই আঙুল অবলীলায় সরিয়ে দিয়েছি নিজের অর্জিত রুটির ঘ্রাণে।
আমার ঘাম ঝরানো আঁচল এখন আর কেবল মায়া ছড়ায় না, ঝড়ের ঝাপটাও দেই রুখে—
সন্তানের শৈশবে যেন অভাবের নোনা জল না লাগে, সেই পাহারায় কেটে যায় আমার বিনিদ্র রাত।
পৃথিবী আমাকে ‘অসম্পূর্ণ’ তকমা দিতে চায় বলেই, মুচকি হেসে পাল্টে দেই তার ব্যাকরণ;
প্রমাণ করি—পিতার পরিচয় কেবল দলিলে থাকে, অস্তিত্ব গড়ায় মায়ের ঘাম।
সমাজের বাঁকা হাসি আর দরজার আড়ালের ফিসফাস আমার জেদ বাড়িয়ে দেয়,
অসহায়ত্বকে গয়না করোনি বলেই হয়ে গেছি লড়াইয়ের ধারালো হাতিয়ার।
বুকের ভেতর জমানো হাহাকারগুলো এখন আর অশ্রু হয়ে ঝরে না—
ওগুলো এখন আত্মসম্মানের জ্বালানি, যা আমাকে একাই পথ চলতে শেখায়।
দিনশেষে ভাঙাচোরা ঘরে যখন বাতি জ্বালাই , মিটিমিটি সে আলোয় কোনো অন্ধকার থাকে না;
আমি কোনো পুরুষের ছায়া নই, আমি নিজেই এক বিশাল বটবৃক্ষ।
আমার একলা চলার প্রতিটি পদক্ষেপ এই পচাগলা সমাজের চৌকাঠ পেরিয়ে,
আমি এক অপরাজেয় বিপ্লবের নাম।