শিরোনাম
বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি : বিজিএমইএ সভাপতি রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি বন্ধ, চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ ১৪ মাস পর ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক এনসিসি ব্যাংকের বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু: ২ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের পৌনে ৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ

জোড়া লাগানো যমজ শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে

  |   বুধবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ২১৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

ছবি সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যমজ শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে তাদের ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার ভোর ৫টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিবন্ধী দম্পতি রুবেল আর আঙ্গুরী বেগমের কোল আলোকিত করে এসেছে ফুটফুটে সন্তান। কিন্তু যমজ শিশুর পেটের নিচ থেকে জোড়া লাগানো, পায়ুপথও একটি।

জটিল চিকিৎসার ব্যয়ভার আর অস্ত্রোপচারের জটিলতা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পরে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সহায়তায় যমজ শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হয় বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, সেখানে যমজ শিশু দুটিকে আলাদা করা সম্ভব নয়; পরামর্শ দেন ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার।

কিন্তু অর্থ না থাকায় বাবা দিনমজুর রুবেল হোসেন বাধ্য হয়ে শিশুদের ফিরিয়ে নিয়ে আসেন বাড়িতে।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ ও সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং চারটি কম্বল প্রদান করেন ওই যমজ শিশুকে। দ্রুত চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসক একটি অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো ব্যবস্থা করেন।

প্রতিবেশীরা বলছেন, রুটির দোকানের দিনমজুর রুবেল হোসেন। বিদিরপুর রেল বস্তির এই দম্পতি এমনিতে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন করেন। গর্ভকালীন প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে দিনাতিপাত করে চলেছেন। এমনকি আল্ট্রাসনোগ্রাম করার অর্থ জুটাতে না পারায় গর্ভকালীন অবস্থার কোনো ধারণাও পাননি তারা।

গত রোববার অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় আঙ্গুরী বেগমকে। কিন্তু জেলায় এ ধরনের চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ধার-কর্য করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

একদিকে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয়ভার, অন্যদিকে শিশুসন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তা সময় কাটছে দিনমজুর রুবেলের। পরিস্থিতি সামলানো এখন অসম্ভব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন অবস্থায় সুহৃদয় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আকুতি জানিয়েছেন বাবা রুবেল হোসেন।

মনিরুল ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী জানান, আপাতত জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সহযোগিতায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যমজ শিশুকে পাঠানো হয়েছে। সেখানেও হয়তো চিকিৎসা হবে। কিন্তু ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে বিত্তবান মানুষের সহযোগীতা একান্ত প্রয়োজন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, এটি অবশ্যই জটিল একটি চিকিৎসা। এটিকে আমরা কনজয়েন্ট টুইন বলি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রোপচার করা গেলে সফলতা সম্ভব। এর আগেও দেশে এ ধরনের চিকিৎসা হয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার করা গেলে শিশু দুটিকে বাঁচানো সম্ভব।

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি জানার পরই আমি তাদের দেখতে এসেছি।

তারা অত্যন্ত দরিদ্র। এ ছাড়া দ্রুত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি দ্রুত শিশু দুটিকে ঢাকায় পাঠাতে বলেছেন।

এ জন্যই তাদের দ্রুত ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office