শিরোনাম
হাকালুকি হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় হাজারো মানুষের ঢল শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী

নবী-জীবনী: নবীজির মা-বাবা

অনলাইন ডেস্ক   |   রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ২২৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

 

আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-কে পবিত্র এক বংশধারায় প্রেরণ করেছেন। মানব সৃষ্টির পর থেকে মহানবী (সা.)-এর জন্ম পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর বংশধারাকে পাপাচার থেকে রক্ষা করেছেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মহানবী (সা.) নিজের বংশধারার শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হিসেবে বলেন, ‘আদম (আ.) থেকে আমার পর্যন্ত আমার বংশে কোনো ব্যভিচার নেই। সবই বিয়ে।’ (আল্লামা মুহাম্মদ ইদরিস কান্ধলভি, সিরাতে মোস্তফা : ১/২০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ গোত্র ও বংশগুলো বাছাই করেন এবং আমাকে সবচেয়ে ভালো বংশে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি ঘরগুলো বাছাই করেছেন এবং আমাকে সবচেয়ে ভালো ঘরে সৃষ্টি করেছেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৬০৭)

উল্লিখিত হাদিসদ্বয়ের আলোকে বলা যায়, মহানবী (সা.)-এর মা-বাবা পূতপবিত্র ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তবে ইতিহাসগ্রন্থগুলোতে নবীজি (সা.)-এর মা-বাবা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না। তাঁদের সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়, তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

বাবা : নবী কারিম (সা.)-এর বাবা আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম। তাঁর উপাধি ছিল ‘জাবিহ’ (আল্লাহর জন্য উৎসর্গীকৃত)। পিতা আবদুল মুত্তালিব তাঁর জীবনের বিনিময়ে এক শ উট জবাই করেন। আবদুল্লাহ আসহাবে ফিলের ২৫ বছর আগে ৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। মহানবী (সা.)-এর জন্মের আগেই ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। মদিনার খেজুর সংগ্রহ করতে যাওয়ার পর সেখানে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান এবং বনু নাজিরে তাঁকে দাফন করা হয়।

মা : নবীজির মায়ের নাম আমেনা বিনতে ওয়াহাব বিন আবদে মানাফ। তাঁর বংশধারা কিলাব ইবনে মুররা পর্যন্ত গিয়ে কুরাইশ তথা বাবার বংশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তিনিও মদিনার অত্যন্ত অভিজাত বংশের মেয়ে ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ছয় বছর বয়সে তাঁর মা ইন্তেকাল করেন। মক্কা-মদিনার মধ্যবর্তী আবওয়া নামক স্থানে তাঁর মৃত্যু হয়। নবী (সা.)-কে নিয়ে তাঁর মামাদের বাড়ি আদি ইবনে নাজ্জার গোত্রে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় তিনি ইন্তেকাল করেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা ৪২)

বিয়ে : মানত পূরণের সময় উট কোরবানির মাধ্যমে প্রিয় সন্তানের জীবন রক্ষা পাওয়ায় আবদুল মুত্তালিব খুশি হন এবং তাঁর বিয়ের ব্যবস্থা করেন।

পরকালীন মুক্তি : মহানবী (সা.)-এর মা-বাবা ধর্মবিশ্বাস ও পরকালীন মুক্তির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ আলেমদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) সহ একদল আলেম বলেছেন, তাঁরা পরকালে মুক্তি পাবেন। কেননা তাঁরা ‘দ্বিনে হানিফ’-এর অনুসারী ছিলেন, যাঁরা একত্ববাদসহ ইবহারিমি ধর্মের মৌলিক বিধানগুলো পালন করতেন। এ ছাড়া তাঁরা পবিত্র কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারাও দলিল পেশ করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি (কোনো সম্প্রদায়কে) নবী প্রেরণের আগে শাস্তি প্রদান করি না।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১৫)

আর তাঁদের মৃত্যু নবী প্রেরণের আগেই হয়েছিল। তবে বিপুলসংখ্যক আলেম তাঁদের পরকালীন মুক্তির ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন। কেননা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং কবরের পাশে কাঁদেন। অতঃপর বলেন, ‘আমি আমার প্রতিপালকের কাছে তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়েছি, আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপর আমি তাঁর কবর জিয়ারতের অনুমতি চেয়েছি, আমাকে তা দেওয়া হয়েছে। তোমরা কবর জিয়ারত করো, কেননা তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯৭৬)

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office