| রবিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট | ২৯৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নিমগ্ন ঋনী # শামিমা নাসরীন মণি
শীতের পড়ন্ত বিকেল ট্রেন ছুটছে নিজের গতিতে। জানালার পাশে বসে ঋণী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ । হলুদ গালিচা বিছিয়ে রেখেছে মাইলের পর মাইল কি যে অপরূপ দৃশ্য না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এই সরিষা ফুলের দৃশ্য ঋণীর কাছে নতুন না , তবে অনেক দিন পরে দেখা । ঋণীর জন্ম গ্রামে শিশু কাল কৈশর গ্ৰামেই কেটেছে । আইএ পাশ করার পর পা রাখে শহরে, সেই ২০০১ সালে এর পর আর গ্ৰামে শুধু ঘুরতে যাওয়া হয় বছরে একবার। আবার কখনো হয় না। আজ অনেক দিন পরে ঢাকা থেকে গ্রামে যাচ্ছে । কর্মব্যস্ততায় সে অনেক কিছুই ভুলে গেছে । সরিষা ফুল গুলির দিকে তাকিয়ে ঋণী মনে মনে সেই অতীতে চলে যায়। মনে পড়ে যায় তার অনার্স লাইফের কথা মনে পড়ে যায় সেই মহিলা হোস্টেলের কথা । কতো কাছের বান্ধবী ছিল যাদের সাথে এক দিন দেখা না হলে বুকের মধ্যে কেমন যেন অজানা কষ্ট লাগতো । আজ তাদের সাথে যোগাযোগ তো নাই অনেক সময় তাদের নাম মনে করতে কষ্ট হয় ।
কোন এক ঈদে দিয়ার বয়ফ্রেন্ড তাকে একটি ড্রেস কিনে দিয়েছিল। সেটা নিয়ে কত ইতিহাস না ছিল। দিয়া আর তার বয়ফ্রেন্ড মার্কেটে গিয়েছিল থ্রি-পিস কিনতে , দিয়া জানতো না তার বয়ফ্রেন্ডের কত টাকা বাজেট ছিল। দোকানে একটা থ্রি পিস দেখে তার ভালো লাগে এবং বলে আমার এটা পছন্দ হয়েছে । অনুর কাছে যা টাকা ছিল তার সবটাই লেগে যায় সামান্য কিছু টাকা হাতে থাকে অনুর । লজ্জায় সে দিয়াকে কিছু বলে না । আবার এদিকে মাত্র চার পাঁচ দিন আছে বাড়ি যাবার , এমন সময় কারো কাছে টাকা ধার পাবার না, কারণ সবাই তাদের নিজেদের ঈদের বাজার করেছে কিংবা করবে ।
অযথা কাউকে বলে নিজেকে ছোট করতে চায় না অনু । বাজার থেকে কিছু গুড় আর চিড়া কিনে এনে অনু রুমমেটদের বলে তার পেট খারাপ তাই সে মিল দিবে না । গুড় আর চিড়া খেয়ে থাকবে। দুই দিন কেটে যায় , রুমমেটরা খেয়াল করে অনু বাথরুমে তো যায় না তবে কেন সে পেট খারাপ বলে মিল দিচ্ছে না। এবার সবাই অনুকে চেপে ধরে আসল ঘটনা কি জানার জন্য । অনুর মুখ থেকে কথা বের হয় না । অনেক কথার পর সে সবাই কে সত্য ঘটনা জানাতে বাধ্য হল । দিয়ার পছন্দ হয়েছে বলে কথা আমি আর না করতে পারিনি । আমার কাছে যা টাকা ছিল আমি ভেবেছিলাম হয়ে যাবে কে জানে মহিলাদের থ্রি পিস এর এতো দাম । দিয়া তো অনেক কিছুই আমাকে দেয় আমি তো কখনো দেই না তাই ভাবলাম ওকে একটা থ্রি পিস দেই । তাই হোক দিয়া জানলে অনেক কষ্ট পাবে তাই কিছু বলিনি ।
তোদের কাছে ও তো টাকা নাই যে ধার করে এই কয়দিন চলব । তাই আমি গুড় চিড়া খেয়ে আছি । তারপর ও তোরা জেনে গেলি এখন আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। দিয়া জানলে অনেক কষ্ট পাবে ।
অনু দিয়া এই প্রেম শেষ পর্যন্ত ঠিকে থাকে নি। জানিনা কোন কারনে তাদের একসাথে থাকা হলো না। অনেক পরে জবার কাছে শুনেছি। কে কোথায় আছে কোন খোঁজ খবর নেয়ার হয়তো সময় সুযোগ হয় না কারো।
এমন সময় ঋণী দেখে পাশে লোকজন ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নিচ্ছে । বাহিরে তাকিয়ে দেখে ট্রেন চলে এসেছে ষ্টেশনে এতক্ষণে খেয়াল করে।