অনলাইন ডেস্ক: | শনিবার, ২৬ জুন ২০২১ | প্রিন্ট | ২৭৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নিজ কার্যালয়ে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাফাইল ছবি
নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, কেউ তাঁকে মেরে ফেললে তিনজনকে মেরে ফেলার জন্য মানুষ ‘রেডি’ করে রেখেছেন। নিজের ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তৃতায় এ ‘পরিকল্পনার’ কথা বলেন তিনি। লাইভে তিনি সেই তিনজনের নামও বলেছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তাঁর স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদের ও নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী।
আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কাদের মির্জা তাঁর ৫৬ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের বক্তৃতার ৩২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে হত্যার হুমকির এই প্রসঙ্গ তোলেন। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় ভাই ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনি আঁরে ডুবাইবেন, আপনি বুঝি বাঁচি যাইবেন। আঁরে মারি হালাইবেন, আঁই রেডি করি যামু। কারে রেডি করমু কইতাম হাইত্তাম ন। হিগুনের (তাঁদের) পারিবারিক দায়িত্ব-টায়িত্ব নিয়ে কই দিছি। তিনজনের নাম কইছি। আঁরে মাইরলে, তিনজনরে মারি হালাইবি।’
এরপরই কাদের মির্জা বলেন, ‘এক আপনি, আপনার স্ত্রী ও একরাইম্যা। তিনগারে মারি হালাইবি। জেলে দেক। আঙোরে হত্যা করবে বলে হুমকি দিছে বলি আঁর বিরুদ্ধে মামলা করুক, করবে আমি জানি। আঁরে কইরলে কইছি (আমাকে হত্যা করলে বলছি)।’
বসুরহাট পৌরসভা ভবনের নিজ কার্যালয়ে বসে ফেসবুক লাইভে কাদের মির্জা আরও বলেন, ‘আজকে ঘরের শত্রু আমাকে শেষ করে দিয়েছে। ওবায়দুল কাদের সাহেব আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কী জন্য নিয়েছেন, সেটি খুঁজে পেয়েছি। আমি উনার এবং উনার স্ত্রীর অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি। তাঁদের সকল আমলনামা আমি আমার হাতে রেখেছি। এগুলো এখনো জনসমক্ষে তুলে ধরিনি, সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরিনি।’
কাদের মির্জা বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে বলেন, ‘ভুলে গেছেন? এক–এগারোর পর বিশেষ আদালত। কাশিমপুর কারাগার। সব ভুলে গেছেন? আপনাদের বিচার কে করবে? আল্লাহর আদালতে হবে। একরামকে, নিজামকে নোয়াখালী, ফেনীর রাজনীতিতে কে প্রতিষ্ঠা করেছে?’
কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনার (ওবায়দুল কাদের) গালে গালে যাঁরা জুতা মারার স্লোগান দিয়েছে, তাঁদের সাথে বসে আপনি সলাপরামর্শ করেন। তাঁরা আজকে হেঁটে হেঁটে বলে, “ওবায়দুল কাদেরকে আমরা মাসোয়ারা দিই।” এই একরাম বলে, “সে (ওবায়দুল কাদের) কোনো দিন আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারবে না। অনেক ঘটনা আছে আমার সাথে জড়িত।” এই কথাগুলো বলার সাহস একরাম-নিজাম কীভাবে পায়?’
ফেসবুক লাইভে জাতীয় রাজনীতি নিয়েও কথা বলেন কাদের মির্জা। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশে ওয়ানম্যান শো রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা, বিএনপির খালেদা জিয়া। এর বাইরে কিছু নেই। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বাহিরে দলে কে কী কাজ করে? সবাই তোষামোদ করে। এই তোষামোদকারীরা খন্দকার মোশতাক। নেত্রী, আপনাকে ওবায়দুল কাদেরের মতো তোষামোদকারীরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, দেখবেন একদিন।’
ফেসবুকে লাইভে এসে এভাবে হত্যার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন শনিবার বেলা তিনটায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন।
একই বিষয়ে কাদের মির্জা ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (প্রকৃতপক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি) ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘তিনি কখন কী বলেন, এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’ সূত্র: প্রথম আলো