শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আরেক দফা বাড়ল আটা-ময়দার দাম

অর্থনীতি ডেস্ক   |   শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১১৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহিত ছবি

কয়ক মাস ধরেই নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আরও বেসামাল হয়ে উঠেছে বাজারদর। একের পর এক বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এবার নতুন করে আরেক দফা বাড়ল আটা ও ময়দার দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আটায় ৫ টাকা আর ময়দার দাম বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মুরগি বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, নাখালপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। আর প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও খোলা আটার কেজি ছিল ৪৫ থেকে ৫০ এবং প্যাকেটজাত আটার কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। প্যাকেটজাত ময়দার দাম না বাড়লেও নতুন বাড়তি দরের ময়দা শিগগিরই বাজারে আসবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্যাকেটজাত ময়দার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।

দাম বাড়ার চিত্র দেখা গেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের প্রতিবেদনেও। সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ২৮ শতাংশ এবং প্যাকেটজাত আটার দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। আর খোলা ময়দায় প্রায় ৮ এবং প্যাকেটজাত ময়দার দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, দুই সপ্তাহ ধরে এক এক করে সব জিনিসের দাম বাড়ছে। ফলে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে আটা-ময়দার দামও বেড়েছে। অবশ্য, ভোগ্যপণ্য বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বেড়ে যাওয়া এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দায়ী করছে।

কারওয়ান বাজারের আব্দুর রব স্টোরের বিক্রয়কর্মী মো. নাঈম বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ানোর পরই পাইকারি পর্যায়ে ১০০ টাকা বেড়েছে আটার বস্তায়। প্যাকেটজাত আটার দামও বেড়েছে। ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশে আটা-ময়দার দাম বাড়ছে; বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা এমনটাই জানিয়েছেন।

কানাডা বাদে বাংলাদেশের গমের অন্যতম উৎস রাশিয়া, ইউক্রেন ও ভারত। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত এপ্রিল থেকে বিশ্বে গমের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। তখন বাংলাদেশেও গম আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেশে হুহু করে দাম বাড়তে থাকে গমের। প্রতিবেশী ভারত থেকে আমদানি করে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত রপ্তানি বন্ধ করলে বাংলাদেশের বিপদ আরও বেড়ে যায়। তখন থেকেই আটা-ময়দার দাম বাড়ার পাশাপাশি এ দুটি পণ্য দিয়ে তৈরি করা প্রক্রিয়াজাত সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দামও হুহু করে বেড়ে যায়।

তবে সম্প্রতি যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য রাশিয়া-ইউক্রেন ঐকমত্যে পৌঁছেছে। দুই দেশ এরই মধ্যে চুক্তিও করেছে। চুক্তির পর গম রপ্তানি শুরু করেছে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৫টি শস্যবাহী জাহাজ ছেড়েছে ইউক্রেন থেকে। যদিও দেশটি থেকে এখনও বাংলাদেশে কোনো গম আসেনি।

এদিকে সরকারের গুদামেও মজুত কমে এসেছে গমের। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গমের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার টন।

অভিযানে আরও কমেছে ডিমের দাম:

কয়েক দিন ধরেই অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগি। হঠাৎ এমন দাম বাড়ায় বিক্রি কমে যাওয়া এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে আমিষজাতীয় খাদ্যপণ্য দুটির দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুরের শাহআলী মার্কেটে প্রতি ডজন ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে; যা বৃহস্পতিবারে বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনও ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম কিছুটা কমলেও ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী মার্কেটের ডিমের আড়তে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ডিম ক্রয়ের ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ না করা, বিক্রির ক্যাশ মেমোর কার্বন কপি ছেঁড়া, কার্বন কপিতে দাম না লেখা, মূল্য তালিকা না টানানোসহ নানা অপরাধে হেলাল ডিমের আড়ত ও মুনির ডিমের আড়তকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অর্গানিক সিল লাগিয়ে বেশি দামে ডিম বিক্রি করলেও অর্গানিক ডিমের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে না পারায় ভাই ভাই আড়ত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office