অনলাইন ডেস্ক: | বৃহস্পতিবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট | ১৪৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একটি দলফাইল ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনের মারিব শহরে দেশটির সরকার–সমর্থিত জোটের সেনাদের সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে দুই পক্ষের ৬৫ সদস্য নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সামরিক ওই কর্মকর্তা জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় সংঘর্ষে সরকার–সমর্থিত বাহিনীর ২২ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বাহিনীটির আরও ৫০ জন। অপরদিকে হুতি বিদ্রোহীদের ৪৩ সদস্য এ সময় নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনে সর্বশেষ ঘটে যাওয়া এ সংঘর্ষের শুরুটা হয় ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হাতে। মারিব শহরের দক্ষিণে সরকারপন্থীদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় তারা। এর আগে অবশ্য জোটের সেনারা বিমান হামলা চালিয়ে তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তাঁদের বেশ কিছু সদস্যের মৃত্যু হয়। এরপরও বিদ্রোহীরা হামলা জারি রাখলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। এর আগেও মারিবে হামলা চালিয়েছিল হুতি বিদ্রোহীরা। গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের হামলায় দুই পক্ষের শতাধিক সদস্য নিহত হন।
এদিকে এমন সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটল, যখন জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি জোট ও হুতিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই কোনো সমঝোতামূলক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। কদিন আগেই গত রোববার আল-আনাদ সামরিক ঘাঁটিতে হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অন্তত ৩০ সেনা নিহত এবং ৬০ জন আহত হন।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে যুদ্ধ চলে আসছে। সে সময় রাজধানী সানা আক্রমণ করে আবদ-রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে হুতি বিদ্রোহীরা। পরে ২০১৫ সালের মার্চে হাদি সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে দেশটিতে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট। এরপর থেকে এই দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলে আসছে। এই লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এর জের ধরে দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।