শিরোনাম
সোমবার থেকে কাঁচামরিচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে: কৃষিমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ করছাড়: এনবিআর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন হাকালুকি হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় হাজারো মানুষের ঢল শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা

কাউছার আহমেদ রিয়ন   |   সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৯১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা

ফাইল ছবি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গত রোববার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর তাণ্ডবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঝড়ের সঙ্গে ছিল শিলাবৃষ্টি,আতঙ্কে সময় কেটেছে মানুষের।

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকায়ই বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। উপজেলার প্রায় ১৭০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে বোরো ধান ও শাকসবজির খেত ও পানজুমের। ঝড়ের কারণে গাছ পড়ে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট দীর্ঘ সময় বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৪টা ৪২ মিনিট থেকে ৪টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার বেগে এই ঝড় বয়ে যায়। এ সময় ১৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।

গতকাল সোমবার বিভিন্ন স্থান ঘুরে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঝড়ে উপজেলার প্রায় ১৭০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘরের বেশির ভাগই ক্ষতি হয়েছে গাছপালা ভেঙে ঘরে পড়ার কারণে। তবে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা করডিট পতমী বলেন, ঝড়ের কবলে পড়ে খাসিয়া পুঞ্জির আটটি পরিবার খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ঘর ভেঙে যাওয়া ও টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাদের। গাছ ভেঙে ও শিলাবৃষ্টির কারণে পান গাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান বলেন, আমরা ঘুরে ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭০ পরিবারের খবর পেয়েছি, যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নেই বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমি ডিসি মহোদয়কে মৌখিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে ঝড়ের পর থেকে পুরো শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে কিছু কিছু জায়গায় সাময়িক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, কালবৈশাখীতে শ্রীমঙ্গলে পল্লী বিদ্যুতের ৩৫টি খুঁটি ভেঙে গেছে। হেলে পড়েছে ১০৫টি খুঁটি, প্রায় ১ হাজার ৯৭ স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। তারের ওপর গাছ পড়েছে ৩৬৭ স্থানে। ১০টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এ বি এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকেই আমাদের লোকজন কাজ করে যাচ্ছেন। এই কালবৈশাখীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৩০ লাখ টাকার জিনিস নষ্ট হয়েছে। আমরা দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছি। পাশাপাশি কিছু শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজনগর উপজেলা থেকে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের আনা হয়েছে এখানে। আশা করছি সন্ধ্যার মধ্যে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারব।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষতি হয়েছে বোরোর ধান ও শাকসবজি খেতের। শ্রীমঙ্গল কৃষি কার্যালয় থেকে জানা যায়, ২৯৫ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৮ হেক্টর জমির শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office