শিরোনাম
রাতে ন্যাশনাল ব্যাংকে ২৩ কোটি লেনদেন, ১৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তলব সোমবার থেকে কাঁচামরিচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে: কৃষিমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ করছাড়: এনবিআর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন হাকালুকি হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় হাজারো মানুষের ঢল শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম

কৃষকদের প্রণোদনা দিতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়: কৃষি উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

বড় বড় খাতে প্রণোদনার জন্য নানা সুপারিশ থাকে, কিন্তু এ দেশে কৃষকদের প্রণোদনা দিতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দিনব্যাপী এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষি উপদেষ্টা বলেন, শিল্প-কারখানার মালিকরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দেন না। কৃষকরা ঋণ নিতে গেলে পান না। আবার শিল্প-কারখানার মালিকরা ব্যাংক ঋণে দুই শতাংশ ইন্টারেস্ট দিয়ে মাফ পেয়ে যান। তারা নানা ধরনের প্রণোদনা পান।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আমি হয়তো আর বেশিদিন এই খাত নিয়ে কাজ করতে পারবো না, কৃষি নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু বলার সুযোগ আর হবে না। তাই এখন বলে যেতে চাই, এই কৃষকরাই জাতির মেরুদণ্ড; আমরা এ কথা মুখে বললেও কার্যক্ষেত্রে তার প্রয়োগ নেই। এ কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না।

তিনি বলেন, দাম না পেয়ে কৃষকরা তাদের ফসল ফেলে দেন। আমরা কয়েকদিন হা-হুতাশ করি। সাংবাদিকরা দুই/একটা সংবাদ করেন। কিন্তু তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদের প্রণোদনা দিতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়।

‘এ ধরনের অবস্থা হলে কৃষকরা বাঁচবে না। আর কৃষকদের উন্নতি না হলে দেশের উন্নতি হবে না। তাই কৃষির উন্নয়ন করতে হলে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে।’

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, আপনারা কৃষকদের দেখবেন।

উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা হয়তো ভাবছি কৃষকরা উৎপাদন না করলে বিদেশ থেকে আমদানি করবো। কিন্তু টাকা থাকলেই সবসময় পণ্য পাওয়া যায় না। তাই আমাদেরই উৎপাদন করতে হবে। তা না হলে বিদেশ গিয়ে আপনার সন্তান ভালো থাকতে পারে, আপনি ভালো থাকবেন না।

কৃষিসচিব ড. মুহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে ‘ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার: আউটলুক ২০৫০’ শীর্ষক এ জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার ঢাকাস্থ প্রতিনিধি ড. জিকুইন শি। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান।

এদিকে আউটলুক নিয়ে জানানো হয়, এটি আগামী ২৫ বছরে কৃষিখাতের রূপান্তরকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত কাঠামো। এই আউটলুক একটি দূরদর্শী কিন্তু বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ হিসেবে পরিকল্পিত, যার লক্ষ্য বাংলাদেশের কৃষিকে টেকসই, সহনশীল, লাভজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পথে পুনর্গঠন করা।

এটি শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির সীমিত দৃষ্টিভঙ্গিতে আটকে না থেকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, যেখানে উৎপাদনশীলতা, পুষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা, ভ্যালু চেইন, বাজার, প্রযুক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বকে একসূত্রে যুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, আউটলুক-২০৫০ এর মূল ধারণা হলো কাঠামোগত রূপান্তর। এতে আত্মনির্ভরশীলতা নির্ভর, অধিক উপকরণনির্ভর ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কৃষি ব্যবস্থা থেকে একটি আধুনিক, বাজারমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় রূপান্তরের কল্পনা করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office