শিরোনাম
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের পৌনে ৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ করেনি ভারত: স্পিকার এমডি-সিইওদের মূল্যায়নের হিসাব নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের উন্নয়নে জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো জরুরি গত পাঁচ মাসে হামের টিকা পেয়েছে প্রায় দুই কোটি শিশু গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি শরীফপুর ইউনিয়নে শামছুল হকের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

চলতি বছরেই স্ক্রিপ নেটিং চালুর লক্ষ্য : ডিএসই চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চলতি বছরেই স্ক্রিপ নেটিং চালুর লক্ষ্য : ডিএসই চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। বাজারের দৈনন্দিন ওঠানামার চেয়ে কাঠামোগত সংস্কার ও দক্ষতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

 

চলতি বছরের মধ্যেই পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের দাবির স্ক্রিপ নেটিং (ইন্ট্রাডে ট্রেডিং) চালু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য ডিএসইর ম্যাচিং ইঞ্জিন ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (ওএমএস) প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কাজ চলছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ডিএসই টাওয়ারে ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনায় এ কথা বলেন ডিএসই চেয়ারম্যান। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এ আলোচনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত রয়েছেন বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক ও হোসাইন সাদাত এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।

মোমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও ডিরেগুলেশনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএসই দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দেশের পুঁজিবাজার অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত বা ‘ওভার-রেগুলেটেড’। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে বাজার তার স্বাভাবিক নিয়মে ও নিজস্ব গতিতে বিকশিত হতে পারে না।

বিএসইসির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি হলো স্ক্রিপ নেটিং চালু করা। সম্প্রতি বিএসইসি এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়নের জন্য ডিএসইর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বিশেষ করে এক্সচেঞ্জের ম্যাচিং ইঞ্জিন ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে পরিবর্তন করতে হবে। ডিএসই এরইমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এর বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে স্ক্রিপ নেটিং চালুর ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত (অপারেশনাল) চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান মোমিনুল ইসলাম। এসব সমস্যা সমাধানে ট্রেকহোল্ডারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে চলতি বছরের মধ্যেই স্ক্রিপ নেটিং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ডিএসইর ওয়েবসাইট আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডিএসই চেয়ারম্যান।

মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি একজন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইট গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস। অনেক ক্ষেত্রে একটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীর প্রথম ধারণা তৈরি হয় ওয়েবসাইট থেকেই।

চলতি কোয়ার্টারের মধ্যেই ডিএসইর নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নতুন ওয়েবসাইটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাবেন বলে জানান তিনি।

বাজারে বড় অঙ্কের ‘বাই অর্ডার’ দিলেই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে কোয়েরি করা হয়-এমন একটি ধারণা রয়েছে উল্লেখ করে মোমিনুল ইসলাম বলেন, কোয়েরি করা মানেই কোনো বিনিয়োগকারী ভুল করেছেন, এমন নয়। এটি মূলত সম্ভাবনাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাইয়ের জন্য যেকোনো বিনিয়োগকারীকে কোয়েরি করা হতে পারে।

তবে কোয়েরির বর্তমান প্রক্রিয়া কখনো কখনো বাজারে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

এ জন্য সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ নিয়ে কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বাজার পর্যবেক্ষণ এবং বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতা-দুই ক্ষেত্রেই আরও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন নতুন পণ্য চালু, বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন মোমিনুল ইসলাম।

এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু পুনর্গঠন প্রয়োজন বলে জানান তিনি। আগামী সেপ্টেম্বরে সিডিবিএলে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বোর্ড পুনর্গঠনসহ পরবর্তী ধাপে প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা না গেলে বাজারের ছোটখাটো ওঠানামা নিয়েই আরও দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকতে হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office