নয়ন লাল দেব, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: | শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | ২২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ছবি - প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ফেসবুকে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তির মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘু বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লোটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে চুনারুঘাট পৌরসভার হাতুন্ডা এলাকার বাসিন্দা গাজীপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন ধর (৫১) ফেসবুকে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে অবমাননাকর একটি পোস্ট করেছেন বলে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
এর রেশ ধরে পরদিন শুক্রবার হাতুন্ডা নোয়ানী জামে মসজিদে জুম্মা নামাজের সময় এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্ষুব্ধ মুসল্লীরা জমায়েত হতে থাকে। পরে জুম্মার নামাজ শেষে আকষ্মিক একদল উগ্র জনতা ধর্মীয় শ্লোগান দিয়ে মিছিল সহকারে চিত্ত রঞ্জন ধরের বাড়িতে হামলা চালায়।
এসময় বাড়িতে থাকা অভিযুক্ত পরিবারের লোকজন কোনরকম প্রাণ বাঁচিয়ে পাশের এক বাড়িতে আত্মগোপন করে। এ হামলায় তাদের বাড়ি ও পারিবারিক দেব মন্দির আক্রান্ত হয়, এছাড়া বাড়িতে ভাংচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশিপাশি বাড়ি ও মন্দির থেকে নগদ অর্থ, দেবতার পিতলের বিগ্রহ, পিতলের বাসন সহ অনেক দামী আসবাবপত্র লোট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভিকটিম পরিবার।
দীর্ঘসময় এ তান্ডবের এক পর্যায়ে খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনার সময় অভিযুক্ত চিত্ত রঞ্জন ধর পাশ্ববর্তী ইউনিয়নে এক আত্মীয় বাড়িতে থাকায় পুলিশ সেখান থেকে তাকে হেফাজতে নেয়।
উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় চুনারুঘাট শহরে তৌহিদি জনতার ব্যানারে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে এক বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে শহরের মধ্যবাজারে এক প্রতিবাদী সভা আয়োজিত হয়, সভায় ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রদান ও অভিযুক্ত চিত্ত রঞ্জন ধরের প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে। উক্ত ঘটনার জের ধরে অভিযুক্তের পরিবার সহ স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
এদিকে ভিকটিম পরিবারের পক্ষ থেকে চিত্ত রঞ্জন ধরের উপর উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তের নামে ভূয়া আইডি খুলে পরিকল্পনা করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রাসেদুল হক জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তবে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি গুজব ছড়িয়েই ঘটানো হয়েছে বলে উঠে এসেছে, যদি এটাই হয় তাহলে এটা কে বা কারা করেছে তা খুব শ্রীগ্রই তদন্ত করে বের করে দুস্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। এছাড়া আক্রান্ত ভিকটিম ও তার পরিবার সহ আতংকে থাকা আশপাশের অন্যান্য সংখ্যালঘু এলাকায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অন্যদিকে এই সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিভিন্ন সংখ্যালঘু ও সামাজিক সংগঠন তীব্র নিন্দা এবং ঘটনাকারী দুবৃত্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন। এছাড়া এর প্রতিবাদে সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে মানববন্ধন সহ নানান কর্মসূচীর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা যায়।