| বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট | ১৫৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
* মা*
আমার জন্মের পর
যখন আমার বয়স তিন বছর
আমার মা রোজ রাতে, মাঝ রাতে, খুব একাকী ডুকরে কাদতেঁন, মাঝ রাতে সেই কান্নার আওয়াজ আমার প্রশান্ত ঘুম ভেঙে দিত, আমিও মায়ের আব নয়নে তাকিয়ে কাদতাম
বাবার অত্যাচারে আর অনাহারে
আধ পেট খেয়ে না খেয়ে দিন কেটে যেত ঠিকই
প্রায় মাকে জিজ্ঞেস করতাম
কি হয়েছে মা তুমার
মা বলত তুই ঘুমা, কিছু হয়নি আমার
আমার বিয়ের পর কোথাও বেড়াতে গেলে নেমতন্নে
আমার স্ত্রী আর আমি মাকে সাথে নিতে চাইলে বলতো আজ আমার শরীর খারাপ তোরা বেড়িয়ে আয় অন্য একদিন যাব
মা বাস পাতা মাছের ঝোল পছন্দ করতেন আমি বাজারে গিয়ে কিনে এনেছি মাকে আগে কিছু বলিনি ভেবেছি মা খুশি হবেন
রান্নার পর মায়ের প্লেটে তুলে দিতেই বললেন আজ আমার
নিরামিষ
মায়ের জন্যে একটা গ্রামীণ রঙের শাড়ী কিনে আনলাম সেদিন
মা বললেন সেই বয়েস আমার নেই বাবা তোরা নতুন বিয়ে করেছিস তোরা আনন্দ কর
সেদিন কৈলাসের বোনের বিয়ে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেতে হবে
মা কে বললাম আমার বন্ধুর বোন শ্রাবস্তীর বিয়ে
তুমি আশীর্বাদ করে এসো
মা বললো আমার প্রেশার , ডায়াবেটিস দুটোই বেড়েছে
তাই যেতে পারবোনা
তোরা যা আমার আশীর্বাদ রইলো, মেয়েটা বাল্য কাল ধরে
এ বাড়িতে কত বার এসেছে
অমন সুন্দর মেয়ে জীবনে খুব কম দেখেছি
মেয়েটির ভাগ্য রেখা ভালো
স্বামী ডাক্তার
সেদিন মাকে বললাম আমার স্ত্রী নন্দিনী আর আমি রেস্তোঁরা তে রাতে ডিনার করবো মা তুমি আমাদের সাথে যাবে
মা বললো পেটে আলসার ডাক্তারের বারণ
বাহিরের খাবার খাওয়া যাবেনা
তোরা যা
এখন মধ্য রাত হঠাৎ মা অসুস্থ
খুব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন
কান্নার আওয়াজ আমাদের গভীর ঘুম ভাঙ্গলো
কাছের একটি হসপাতালে নিয়ে গেলাম
কর্তব্য রত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলেন ইংরেজিতে বললেন শী ইজ নো মোর
শাদা একটি কাপড় আপাদ মস্তক টেনে দিলেন
সত্যি বলছি মায়েরা মিথ্যা বলে।
#
*কিভাবে বেচেঁ আছি*
#
এখন আমি একলা থাকি
বন্ধ সব ঘর
জানালায় উঁকি দিয়ে দেখতে চাই
জগত বাহির
হৃদয় আমার বেদনার জমিন
সেথায় শুধু কাদা আর জল
বারেক আঁখি করে টলমল
কোন মায়ায় ঘরে আছি
কেউ জানেনা
এখন আমার হাতের ওপর হাত
থাকেনা
কতদিন ভোর দেখিনা
ক্রমশঃই বদল হয় চশমার আলোড়ন
যে ছিলো ঘরের রাণী
সে এখন অন্যের ঘরণী
আমার কবিতার পঙক্তিতে তারে আঁকি
তার অবয়ব তার লাজুক হাসি
আরো যত নারীও সব
এই বিশেষ ব্যাপার বিশেষ কথা কেউ জানেনা
এখন আমায় কেউ ডাকেনা
বালখিল্য এই খেলায় তুমিই জয়ী
আমি তো কেবল বিষাদের গহ্বরে করি বিস্তার
এই জীবন তুমাকে পেলে হতো উদ্ধার
হয়তো পার্থিব কালে পাইনি তুমায়
ইতিহাস পরিবর্তনের দিন এলে
দেখবো তুমি লোকাবে কোথায়
বাড়ীর মায়া ঘরের রঙের কিংবা
মৃত তৃণের মায়া
আমাকে জড়িয়ে ধরে
আমার কেন এমন হল কেউ জানেনা।
#
*কনিষ্ঠা*
#
তোমাকে হারানোর ভয়ে আমি আর কিছু পেতে চাই না
তোমাকে না দেখার কষ্ট আমি আর সইতে চাই না
তুমি মেঘ মালার মতো অদৃশ্য হলে যে বেদনা
সেই বেদনা আমি ভূল করেও
ভুলতে পারি না
কতোদিন তুমি ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে
বেলী ফুলের অরণ্যে এসে চলে গেছো মসৃণ পায়ে
কিংবা বসন্তের প্রথম নিশীথে
তুমি অলির মতো ঘুমিয়ে পড়েছিলে আমার বুকে
সেই সব দিন আমি আর চাইনা
ভুল স্বপ্ন থেকে বাইরে এসে দেখি
আজ সত্যি তুমি আমার পাশে
আমি ব্যর্থ প্রমিকের মতো
কলোহস্য হেসে চলতে চাইনা
রোজ রাতে তিনটি কুকুর কে বিস্কুট খাওয়াই
অন্ধ মানুষের সাদা লাঠি হাতে তুলে দিয়েছি বহুবার
আমি আর নশ্বরতার মধ্যে যেতে চাই না
আমি তুমার মধ্যখানে ডুব দিতে চাই
ডুব সাঁতারের মতো
তুমার মধ্য সাগর থেকে মুক্তো আনতে চাই
তিমিরের সারাবেলা
তুমার ভরাট বুকে একবার শীর রেখে
একবার তন্দ্রা বিলাস যেতে চাই
তুমাকে আবৃত্তি করতে চাই
দিবস রজনী খুব গোপনে
বেশি কিছু চাইনা, কিছু না
তুমাকে হারাতে চাই না।