| বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট | ১০৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত তুরস্ক-সিরিয়া। এমন বিপর্যয়ে উদ্ধার কার্যক্রম ও সাহায্যের জন্য বাংলাদেশ সরকার ৪৬ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল তুরস্কে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ জন, ১০ জন চিকিৎসক ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১২ জন সদস্য থাকবেন।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।
আইএসপিআর জানায়, উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্ব দেবেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রুহুল আমিন। উদ্ধারকারী দলটি ভূমিকম্প পরবর্তী জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান তুরস্কে পাঠানোর জন্য ঢাকা-আঙ্কারা-ঢাকা রুটে একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
তুরস্কে যাচ্ছে বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দল
বিমানটি বাংলাদেশ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। তুরস্কে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর পর বিমানটি পুনরায় ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।
উদ্ধারকারী দলটি ভূমিকম্প পরবর্তী সাহায্যের জন্য তুরস্ক জনগণের মাঝে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম এবং মেডিকেল সহায়তা দেবে।
উদ্ধারকাজে অত্যাধুনিক যন্ত্র পাঠানো হচ্ছে, যেগুলো উন্নত বিশ্বে ব্যবহার হয়ে থাকে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসের যে ১২ জন উদ্ধারকাজে তুরস্কে যাচ্ছেন তারা মালেয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অল্প জায়গায় বেশি মানুষ হলে কাজে বিপত্তি হয় বলে কেবল উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিরিয়ায় ২৫৩০ জনের মৃতের খবর পাওয়া গেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। সেহিসেবে সর্বমোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১,১০৪ জনে।
ভূমিকম্পে পরবর্তী দিনগুলোতেও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটির জিওফিজিক্সের অধ্যাপক মার্টিন মাই। তিনি আল-জাজিরা বলেন, এটি ‘শত বছর ধরে বচেয়ে বড় ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা’। মৃতের সংখ্যা পরবর্তী দিনগুলিতে বাড়তে পারে।
এরআগে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ৭.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে। এর ১১ মিনিট পরই আঘাত হানে ৭.৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প। তুরস্ক ছাড়াও এই ভূমিকম্প পাশের দেশ সিরিয়া, সাইপ্রাস ও লেবাননেও অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট খাদ্য ও পানি সংকট, বাসস্থান সংকট ও জরুরি চিকিৎসা সেবার অভাবে সেখানে সার্বিকভাবে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।