অনলাইন ডেস্ক: | মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট | ১৩৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইভ্যালির চেয়ারম্যান মোছা. শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ফাইল ছবি
এবার ধানমন্ডি থানার মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে এক দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তবে রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের অ্যাডিশনাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হক এ আদেশ দেন। এর আগে রাসেল ও শামীমাকে আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে ওই আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি কে এম সাজ্জাদুল হক। তিনি আদালতে বলেন, আসামি রাসেল ও তাঁর স্ত্রী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।
অন্যদিকে রাসেল ও তাঁর স্ত্রীর আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন তাঁদের গুলশান থানার মামলায় তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত। সেই রিমান্ড শেষে আজ দুপুরে তাঁদের আদালতে হাজির করে পুলিশ।
আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক গুলশান থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. রাসেল ও শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
এদিকে ১৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির চেয়ারম্যান রাসেল, তাঁর স্ত্রীসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী গ্রাহক কামরুল ইসলাম চোকদার। তিনি ইভ্যালির পণ্য সরবরাহকারী ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ৪টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪২ টাকার পণ্য সরবরাহ করেন। কিন্তু ইভ্যালি এসব পণ্যের অর্থ পরিশোধ করেনি। এ ব্যাপারে একাধিকবার ইভ্যালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।
গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কাছে ইভ্যালির দেনা বেড়ে এক হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। র্যাব বলছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এমন তথ্য দিয়েছেন। র্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানান, গত ফেব্রুয়ারিতেও এই দেনার পরিমাণ ছিল ৪০৩ কোটি টাকা। গ্রাহকের এই টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। সর্বশেষ দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে ইভ্যালিকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনাও ছিল রাসেলের।