| সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট | ১৩৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নির্বাসনের আগে # জামিল আহমেদ
আমাকে এই সোনালী আশের ফসলের মাঠ থেকে
সবুজের ধানক্ষেত, গাঙচিল
শালিকের ঝাঁক, সাদা বক
চিরো কুমারী এই দেশ থেকে আমাকে নির্বাসন দিতে চাও
তবে নির্বাসন দেবার আগে
আমার ঘরের রমণীটির সাথে শেষ বার শেষ কথা কইতে দাও
আমার মুক্তিযুদ্ধা বাবার সাথে শেষ বার শেষ কথা কইতে দাও
আমাকে মাঠের রাখালের শেষ বাঁশির সুরেসুরে সুর মেলাতে দাও
আমাকে কৃষকের সাথে শেষ লাঙ্গল চালাতে দাও
আমাকে আমেনার মায়ের শূণ্য বাসুন এর শেষ শব্দ শুনতে দাও
আমার ঘরের বেড়ালটা কিভাবে দুধে মুখ দেয়
আমার বাড়ীর কুকুর যেটা পাহারা দেয় রোজ রাতে
মাঠে শিশুরা প্রত্যুষে বৈকালে খেলে
নদীতে ডুবসাঁতার ছেলেবেলার
আমাকে দেখতে দাও
আমাকে নির্বাসন দেবে দাও
আপত্তি নেই তাতে
আমি পদ্মার ঢেউ কপোতাক্ষের ঢেউ
সেখানের সোনালী ডানার চিল
নব কুমারীর হাসি
কিংবা নদীর পাশে বাড়ী
নব দম্পতির সঙ্গমের পাশে শুয়ে একবার পূবালী বাতাস নোগ্ন শরীরে লাগাতে চাই
আমি ভিন দেশি পথিক নই আমি
জুনাকির সাথী তিমিরের বেলা
আমি অলকানন্দা জলে ভেসে চলি
আমি তো অভ্যাগত অতিথি নই
আমাকে চেনে বকুল ফুল আর
যামিনী , নক্ষত্র চাঁদনী
আমাকে নির্বাসন দেবার আগে এদের কাছ থেকে বিদায় নিতে দাও
আমি বলছিনা আমাকে নির্বাসন দিয়ো না
আমার পিতা মহ মুক্তি ফৌজ
আমার অদৃষ্টের ঘামের গন্ধ এ আছে সেই চিনহ
ধান আর ফসলের মাঠে ছুপ ছুপ রক্ত
সে রক্ত আমার মুক্তি যুদ্ধা ভাইয়ের
আমি কি ভুলতে পারি
উত্তর দাও
আমাকে নির্বাসন দেবে দাও
আমি বন্নদের সাথে কথা বলতে চাই
আমি যমুনার জলে ভাসা মনোমুগ্ধকর জলজ প্রাণীর সাথে
একাকী নিশীথের অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে ফেরা পথিকের সাথে কথা বলতে চাই
আজকাল রাতে জল তেষ্টা বাড়ে
ছাড় পুকার সাথে হাটি রোজ রাত্রি বেলা
আমি শেষ পুরুহিতের সাথে
শেষ ঈমানদারের সাথে কথা বলতে চাই
আমাকে নির্বাসন দেবে দাও
আমি সেগুন বনে মাথা ঠুকরে ঠুকরে মরে যাব
আমি চোরাবালিতে হারিয়ে যাবো
বঙ্গ সাগর তীরে
আমি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া যাব
আমি পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাব
আমি এই বাংলাদেশে ঘুরবো শুধু আরেকবার
আমাকে নির্বাসন দেবে দাও
আমার দাবী গুলো মেনে নাও
নয়তো আমি হেমলক পান করে মরে যাব।।