শিরোনাম
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের পৌনে ৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ করেনি ভারত: স্পিকার এমডি-সিইওদের মূল্যায়নের হিসাব নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের উন্নয়নে জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো জরুরি গত পাঁচ মাসে হামের টিকা পেয়েছে প্রায় দুই কোটি শিশু গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি শরীফপুর ইউনিয়নে শামছুল হকের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

প্রেসক্রিপশন পয়েন্টে তালা : মুখ খুলল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্বাস্থ্য ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ২৫১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রেসক্রিপশন পয়েন্টে তালা : মুখ খুলল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর বনানী এলাকার প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট লিমিটেড ও ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মালিকপক্ষের অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যই তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য উপস্থাপন করছে বলেও দাবি করে অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. হাবিবুল আহসান তালুকদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বপ্রথম গত ১৮ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন দল প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনকালে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন আইন অমান্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে জনগণের হয়রানি, মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট এবং অদক্ষ জনবলের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এসব অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ এবং লাইসেন্স স্থগিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তবে রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা এবং কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে আদালতে রিট পিটিশন (৬৫৬১/২০২৩) দায়ের করে প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা ও কার্যক্রম বন্ধ করার বিষয়ে আপিল আবেদন করে তারা। পরবর্তী সময়ে আদালত রুলটি খারিজের জন্য তারিখ ঘোষণা করলে সময়ের জন্য আবেদন করে প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট কর্তৃপক্ষ। এরপর সম্পূরক জবাব দায়ের করলে আদালত মূল কোর্টের জন্য নির্দেশনা দেন এবং সাত দিনের মধ্যে প্রার্থীর আবেদন নিষ্পত্তির জন্য রুল জারি করেন।

অন্য আদালতে পুনরায় রিট পিটিশন দায়ের করে প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনার কারণে গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করে তারা। এরপর আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সারাদেশে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেগুলো অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন অনিয়মের মধ্যে চলমান আছে। সেগুলোর বিষয়ে মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস আইন অনুযায়ী চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যাতে জনগণ হয়রানির স্বীকার না হয়।

কিন্তু চলমান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য উপস্থাপন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

যেসব অনিয়মে বন্ধ প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট

১. লাইসেন্সবিহীনভাবে রক্ত পরিসঞ্চালন কার্যক্রম পরিচালনা করা, যা নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন আইন-২০০২ এর ধারা ১৮(১) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

২. মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার করা।

৩. সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়।

৪. মেডিকেল চেকআপ সেন্টারের লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও বিদেশগামী যাত্রীদের পরীক্ষার সনদ দেওয়া।

৫. হাসপাতালের লাইসেন্স ব্যতিত জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালু রাখা।

৬. অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন জনবল দিয়ে ল্যাবরেটরিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং রোগীদের ভুল রিপোর্ট দিয়ে প্রতারিত করা।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বনানীর এই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলমান অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দেয় অধিদপ্তর। তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দখলের পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office