আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ১২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান বৈদেশিক পৃষ্ঠপোষক হিসেবে খ্যাত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ করে বাংলাদেশিদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী মোদি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার ডেলাওয়ার রাজ্যের উইলমিংটনে বাইডেনের বাসভবনে মার্কিন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। পরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদি ও বাইডেনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত মাসে বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপেও বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মোদি।
সেই সময় এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে তাদের ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়, তাতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কোনো কথা ছিল না। ফলে মোদির দাবি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ভারতের পিটিআই বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এ দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভারতীয় দাবি একটা ‘অজুহাত’।
উইলমিংটনে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত– এই চার দেশের জোট কোয়াডুর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাইডেন ও মোদির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা অংশ নেন। কোয়াড নেতারা একটি অবাধ, উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জানান।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোয়াড সম্মেলনেও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, আলোচনায় এই অঞ্চলের নানা বিষয় এসেছে। এসব বিষয় কোনো একটি পক্ষ বা অন্যান্য পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হতে পারে, কিন্তু এই অঞ্চলের বাইরেও এগুলোর গুরুত্ব আছে এবং এ পরিপ্রেক্ষিতে অনেক পরিস্থিতি আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গও আলোচনা উঠে এসেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। তবে আলোচনার কী বিষয় স্থান পেয়েছে, তা জানা যায়নি।