আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রবিবার, ২১ মে ২০২৩ | প্রিন্ট | ৯৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দেশটির বাখমুত শহরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ওই শহরে রাশিয়ার জয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আকস্মিক হামলা চালায় রাশিয়া। তারপর থেকে দেশটির বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছেই।
রোববার (২১ মে) জেলেনস্কির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, তার বাহিনী বাখমুতের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছে কেনা। এর জবাবে জেলেনস্কি বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক, এটা একটা ট্র্যাজেডি। কিন্তু বাখমুত আমাদের হৃদয়ে রয়েছে।
এরপরেই তার কার্যালয় থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়। সেখানে বলা হয়, জেলেনস্কির এই বক্তব্যে তিনি বাখমুতের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি বোঝাননি। এর আগে গত শনিবার ওয়াগনার রাশিয়ান প্যারামিলিটারি দাবি করে যে তারা বাখমুত দখল করে নিয়েছে।
এক ভিডিওতে ওয়াগনার রাশিয়ান প্যারামিলিটারির প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভগেনি প্রিগোঝিনকে তার দলের বেশ কয়েকজন যোদ্ধার সঙ্গে দেখা গেছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা গেছে যে, তার বাহিনী পুরো শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিক ভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন সরকার। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, সেখানকার পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল।
অপরদিকে রোববার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও দাবি করেছেন যে, বাখমুতে লড়াইয়ে রাশিয়া জয়ী হয়েছে। যারা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সেসব সেনাদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৌশলগত ভাবে বাখমুত দখল করে নেওয়াটা মস্কোর কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এর দখল প্রতীকী অর্থে রাশিয়ার জন্য বিজয়। গত আগস্ট থেকেই ওই শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছিল।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ধারণা, বাখমুতে রাশিয়ার ২০ থেকে ৩০ হাজার সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে জি-৭ সম্মেলনের জন্য বর্তমানের জাপানের হিরোশিমায় অবস্থান করছেন জেলেনস্কি। সেখানে তাকে বাখমুত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে যে, এখানে আর কিছুই নেই। তারা সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই শহরে প্রচুর রুশ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমাদের সেনা সদস্যরা কঠোর লড়াই চালিয়ে গেছে। তাদের এই মহৎ কাজের জন্য আমরা তাদের প্রশংসা করছি। তিনি আরও বলেন, শহরের বেশিরভাগ ভবনই ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরো জনগোষ্ঠী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।