শিরোনাম
সোমবার থেকে কাঁচামরিচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে: কৃষিমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ করছাড়: এনবিআর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন হাকালুকি হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় হাজারো মানুষের ঢল শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান
বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য মেলা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনকালে কথা বলছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন/ছবি: এমদাদুল হক তুহিন

বাণিজ্য মেলা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা একটি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও গতিশীল করে তোলে।

৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনকালে এসব মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিগ ওয়েভ) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বক্তব্য রাখেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও এফবিসিসিআই এর প্রশাসক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্য মেলা শুধু পণ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি। রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা একটি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও গতিশীল করে তোলে। এ মেলায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার সমারোহ ঘটে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের পণ্যেরও উপস্থিতি থাকে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, এ মেলার মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশজ পণ্য-সামগ্রীকে বিদেশি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়, অন্য দিকে প্রদর্শিত বিদেশি পণ্যের গুণ ও মান সম্পর্কে এদেশের ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা ধারণা লাভ করেন।

মেলাটি মাসব্যাপী সকাল ৯টা হতে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ৬টি দেশের (ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া) মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে।

এবারের বাণিজ্য মেলায় অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল/প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় ই-টিকিটিং (অন-স্পট টিকেট ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইনে টিকেট ক্রয়পূর্বক কিউআর কোড স্ক্যান করে মেলায় প্রবেশ)-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে কনসেশনাল রেটে পাঠাও সার্ভিস।

এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, তারুণ্যের শক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে মাসব্যাপী মেলায় থাকছে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আয়োজন।

পঞ্চমবারের মতো বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে। মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৭টি (দেশি ৩১৬টি ও বিদেশি ১১টি প্রতিষ্ঠান) প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শতভাগ স্বচ্ছতায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, মেলায় ২টি শিশু পার্ক ও উত্তর-পশ্চিম পাশে মসজিদ/নামাজ ঘর স্থাপন করা হয়েছে। এবারের মেলায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এক্সিবিশন হলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুরুষ ও মহিলা পৃথক টয়লেটের পাশাপাশি এক্সিবিশন হলের বাইরেও পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেট রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।

মেলায় খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ গঠিত টিম মেলা চলাকালীন নিয়মিত ভেজালবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।

মেলায় ৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রিমিয়ার রেস্টুরেন্ট/প্রিমিয়ার মিনি রেস্টুরেন্ট/কফি শপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মেলায় এক্সিবিশন সেন্টারের ভেতরে ৫০০ আসন বিশিষ্ট একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে যাতে মেলায় আগত দর্শনার্থীগণ নির্ধারিত মূল্যে চমৎকার পরিবেশে মানসম্মত খাবার খেতে পারবেন।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও পেশেন্ট কেয়ার অ্যাটেনডেন্ট উপস্থিত থেকে ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেবেন।

আয়োজকরা জানান, মেলায় থাকবে পর্যাপ্ত কার পার্কিংয়ের সুবিধা। ৫ শতাধিক গাড়ি পার্কিং সুবিধাসংবলিত দ্বিতল কার পার্কিং বিল্ডিং ছাড়াও এক্সিবিশন হলের বাইরে ৬ একর জমিতে এবং রাজউক এর গরুর হাট-মাঠসহ ৩টি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, মেলার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সচিবালয় ও দর্শনার্থীদের সব ধরনের তথ্য দেওয়ার জন্য একটি তথ্যকেন্দ্র। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক এটিএম বুথ। মা ও শিশুদের জন্য মেলায় থাকবে মা ও শিশু কেন্দ্র।

মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্যে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুর বাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে শাটল বাসের সর্বশেষ ট্রিপ ছাড়বে রাত ১১টায়। এছাড়া, পাঠাও অ্যাপস এর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে মেলায় যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেলার টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা। তবে শিশুদের অর্থাৎ, ১২ বছরের নিচে ২৫ টাকা। তবে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধীরা ও জুলাই আহতরা তাদের কার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office