অনলাইন ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১ | প্রিন্ট | ১৯৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ছবি সংগৃহীত
ঢাকার কেরানীগঞ্জে এন মল্লিক পরিবহনের বাসে উঠেছিলেন বাকপ্রতিবন্ধী এক তরুণী। তার কাছে ভাড়া দেওয়ার মতো টাকা ছিল না। বাসটির হেলপার তার কাছে ভাড়া চাইলে তিনি কাগজে লিখে বিষয়টি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হেলপার। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সে চালকের নির্দেশে তরুণীকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় জড়িত চালক মো. সবুজ ও হেলপার মো. নাহিদকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
কেরানীগঞ্জে তরুণীকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর সোমবার গভীর রাতে কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরের কুচিয়ামারা থেকে চালক-হেলপারকে গ্রেপ্তার করে র্যাবের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১০ এর একটি যৌথ দল।
চালক-হেলপারকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার দৃশ্যটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনা মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তরুণীকে অমানবিক নির্যাতনের বিষয়টি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে। র্যাবের সাইবার ইউনিট বিষয়টি জানার পর জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাত দেড়টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল ফোন, নগদ ৮০০ টাকা, একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স (হালকা যানবাহন) এবং বাসটি জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার দু’জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাবের মুখপাত্র জানান, কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা থেকে বাসে ওঠেন ওই তরুণী। তিনি ওই পরিবহনের নিয়মত যাত্রী ছিলেন। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবহনটির এক কর্মকর্তা তাকে বিনাভাড়ায় চলাচলের অনুমতি দিয়েছেন। এরপরও সেদিন ভাড়া দিতে না পারায় তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে হেলপার নাহিদ। তখন বাসের যাত্রীরা তাকে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা চালান। তবে সে কারও কথা শোনেনি। শেষে তরুণীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা হয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ওই ঘটনার পর চালক ও হেলপার তাদের স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে গেছে। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তারা পালিয়ে যায়। বাসচালক সবুজ মিয়ার হালকা যান চালানোর লাইসেন্স থাকলেও সে বাস চালাতো। তার লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করবে র্যাব। এ ছাড়া বাসটির রুট পারমিট যাচাইয়ে বিআরটিএতে চিঠি দেওয়া হবে। এই পরিবহনের কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের আরও অভিযোগ থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে রোববার সকালে ওই তরুণীকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে সোমবার তার মা বাদী হয়ে মামলা করেন। তিনি জানান, তরুণী পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে থাকেন। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য তিনি বিভিন্নজনের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন।