আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট | ৯৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
সিরিয়ার সীমান্ত্রের কাছে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তুরস্ক ছাড়াও সাইপ্রাস, লেবানন এবং সিরিয়ায়ও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের নুরদাগি এলাকা থেকে ২৩ কিলোমিটার পূর্বে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতায়’র বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, তুরস্কে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৪ জন। সেইসঙ্গে আহত হয়েছে অন্তত ২৩২৩ জন।
অপরদিকে সিরিয়ার সহকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী আহমেদ ধমিরিয়েহ দেশটির একটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে প্রায় ২৩৭ জন নিহত এবং ৬৩৯ জন আহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই হামা, আলেপ্পো ও লাতাকিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। সেখানে অসংখ্য দালান ধসে পড়েছে। খবর আল-জাজিরা
ভূমিকম্পে পরবর্তী দিনগুলোতেও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটির জিওফিজিক্সের অধ্যাপক মার্টিন মাই। তিনি আল-জাজিরা বলেন, এটি ‘শত বছর ধরে বচেয়ে বড় ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা’। মৃতের সংখ্যা পরবর্তী দিনগুলিতে বাড়তে পারে।
এদিকে সিরিয়ার বিরোধী দল দেশটির উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে মানবিক সাহায্যের আবেদন করেছে
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমন সোয়লুর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ভুমিকম্পে ১০টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরগুলো হলো- গাজিয়ানটেপ, কাহরামানমারাস, হাতায়, ওসমানিয়ে, আদিয়ামান, মালত্য, সানলিউরফা, আদানা, দিয়ারবাকির এবং কিলিস।
এই পরিস্থিতিকে ‘ট্র্যাজেডি’ অ্যাখ্যা দিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান টুইট বার্তায় বলেন, সবার প্রচেষ্টায় এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠবো আমরা। নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি। টুইট বার্তা এরদোয়ান বলেন, আমরা আশা করি যত দ্রুত সম্ভব এবং প্রাণহানি এড়িয়ে এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠবো।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠের ২৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল বলে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম কম্পনের প্রায় ১১ মিনিট পর আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ৯.৯ কিলোমিটার গভীরতার ওই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৭।
তুরস্ক পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটিতে অবস্থিত। এর আগে ১৯৯৯ সালে দেশটির উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।