অনলাইন ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১ | প্রিন্ট | ১৮৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ছবি: রয়টার্স
বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালিয়েছে মিয়ানমারের পুলিশ। এতে কেউ মারা না গেলেও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের ফলে দেশটিতে গত মাস থেকে অচলাবস্থা চলছে। সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যখন আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এ অবস্থায় মঙ্গলবার দেশটিতে আবারও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল। খবর রয়টার্সের।
গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। অং সান সুচিসহ প্রধান নেতাদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে নানা মামলাও দায়ের করা হয়। তবে সামরিক বাহিনীর এ পদক্ষেপকে মেনে নিতে পারেনি দেশটির গণতন্ত্রকামী নাগরিকরা। ওই ঘটনার পর থেকে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কমপক্ষে ২১ ব্যক্তি নিহত হন।
সেনাবাহিনী বলেছে, একজন পুলিশও মারা গেছে। অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নিতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিডিও কলের মাধ্যমে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঙ্গলবারও শত শত প্রতিবাদকারী রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের মাথায় ছিল শক্ত টুপি। ইয়াঙ্গুনের বিভিন্ন সড়কে তারা সেনা শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানে বলা হয়, আমরা নিপীড়িত হলে বিস্ফোরণ ঘটাব, আমরা আঘাত পেলে প্রত্যাঘাত হানব। গুলির ঘটনায় ইয়াঙ্গুনে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কালে শহরে বিক্ষোভকারীদের হটানোর উদ্দেশ্যে ছোঁড়া গুলিতে চারজন আহত হয়েছেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, পুলিশ এমন আচরণ দেখাচ্ছিল, যেন তারা যুদ্ধের ময়দানে শত্রুপক্ষের মোকাবেলা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষক বলেন, চারজন সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়া রাবার বুলেটও ছোঁড়া হয়েছে।
সত্যতা যাচাইয়ের জন্য হাসপাতাল ও পুলিশকে জিজ্ঞেস করার জন্য ওই এলাকায় পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনীর মুখপাত্রও টেলিফোন ধরেননি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী ও পুলিশের এই পদক্ষেপকে ‘ঘৃণ্য সহিংসতা’ বলে উল্লেখ করে এটা বন্ধ না হলে এবং সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।