অর্থনীতি ডেস্ক | সোমবার, ২৫ জুলাই ২০২২ | প্রিন্ট | ১০৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সহজ লিমিটেড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন হাওলাদার রনির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের বক্তব্য দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, রনিকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো অবহেলা ছিল না।
সম্প্রতি রনি রেলওয়ে ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন, গত ১৩ জুন অনলাইনে টাকা পরিশোধ করলেও তিনি কোনো টিকিট পাননি। গত ২০ জুলাই এ বিষয়ে শুনানি শেষে ভোক্তা অধিদপ্তর সহজকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে।
শুনানিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছিলেন, রনির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহজ ডটকমের অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে সহজকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সহজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা কাদির বলেন, ‘টিকিট সংক্রান্ত যে কোনো ভোগান্তি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। যদিও মহিউদ্দিন রনির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের এবং ব্যাংকের পেমেন্ট রিকনসিলিয়েশন পলিসির সব ধরনের নিয়ম মেনেই যথাযথ সেবা দেওয়া হয়েছে। সহজ লিমিটেড কোনোভাবেই তাঁর প্রতি দায়িত্বের অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করেনি।’
বিবৃতিতে সহজ বলেছে, রনি গত ১৩ জুন সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে রেলওয়ের ই-টিকিট পোর্টাল থেকে ঢাকা থেকে রাজশাহীর চারটি টিকিট কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেন। ওই সময় তাঁর এমএফএস অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তিনি সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে তাঁর মোবাইল ওয়ালেটে তিন হাজার টাকা জমা করেন এবং ৯টা ৩৭ মিনিটে টিকিটের দুই হাজার ৬৮০ টাকা পরিশোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ১৫ মিনিটের মধ্যে ট্রানজেকশনটি সম্পন্ন করতে না পারায় তাঁর বুকিংটি বাতিল হয়ে যায়।
ডিজিটাল রেকর্ড অনুসারে ওই তারিখে তার নামে কোনো টিকিট ইস্যুই হয়নি। ই-টিকিট পোর্টালের সব শর্ত মেনে নিয়েই মহিউদ্দিন রনির টিকিট কেনার কথা থাকলেও তা পূরণ করতে তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হন।
এতে আরও বলা হয়, সহজ টাকা না পাওয়ায় টিকিট ইস্যু হয়নি। রনির টিকিটের কোনো টাকা তাঁর মোবাইল ওয়ালেট থেকে সহজ জেভি’র অ্যাকাউন্টে জমাও হয়নি। টাকাটি তার নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ‘ফ্রিজ’ অবস্থায় ছিল। গ্রাহকের টিকিটটি শর্তানুযায়ী সাকসেসফুলি ইস্যু হয়নি। তাই তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস প্রোভাইডার পরবর্তী ৩ কর্মদিবসের ভেতরে স্বয়ংক্রিয় রিকনসিলিয়েশন পদ্ধতিতে পরবর্তীতে ‘আনফ্রিজ’ করে গ্রাহককে দিয়ে দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রেলওয়ের টিকিটিং ওয়েবসাইটের সকল নিয়ম ও শর্ত মেনেই রনিকে সেবা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৮ কর্মদিবসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তাঁর মোবাইল অ্যাকাউন্টে টিকিটের মূল্য বাবদ দেওয়া সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পেয়ে যান। টিকিট সংক্রান্ত সহায়তা মেইলে যোগাযোগ করলে তাঁকে মাত্র দুই মিনিটের ভেতর প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে রিপ্লাই দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ইমেইলের কোনো রিপ্লাই দেননি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রনির উল্লেখযোগ্য অভিযোগ ছিলো, তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের গোপন পিন নম্বর ছাড়াই টাকা কাটা হয়েছে, যা একেবারেই সঠিক নয়। তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস প্রোভাইডার এ বিষয়ে সমস্ত তথ্য প্রমাণ ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে উপস্থাপন করেছে।