শিরোনাম
সোমবার থেকে কাঁচামরিচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে: কৃষিমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ করছাড়: এনবিআর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন হাকালুকি হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় হাজারো মানুষের ঢল শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার চায় ঢাকা চেম্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতি ও সামষ্টিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সময়োপযোগী, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ এবং সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একইসঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ব্যবসায়িক আস্থা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিসিসিআই মনে করে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উদ্ভূত রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। সংগঠনটির মতে, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশীয় উদ্যোক্তা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে আরও টেকসই করবে।

২০২৬ সালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ, ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা হ্রাস, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত ও অবকাঠামোগত পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ডিসিসিআই। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, বিশেষ করে সিএমএসএমই খাতে সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

চলমান জ্বালানি সংকট ও উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমেয় জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ নীতির পাশাপাশি দ্রুত নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে ডিসিসিআই।

বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে দেশের আর্থিক খাত নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এর ফলে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটাতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থার বিবেচনা এবং প্রবাসী আয় প্রবাহ বাড়াতে আরও কার্যকর প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার।

একইসঙ্গে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারি নির্ভরতা কমানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে আর্থিক খাতের তারল্য সংকট অনেকাংশে প্রশমিত হবে বলে মনে করে ডিসিসিআই।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংকঋণ গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার। সংগঠনটির আশঙ্কা, এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর নামে বিদ্যমান করদাতাদের হয়রানি না করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, কর আইনের আধুনিকায়ন ও সংস্কার এবং নতুন রাজস্ব খাত সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছে ডিসিসিআই।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় যথাযথ প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ঢাকা চেম্বার। এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ডিসিসিআই মনে করে, রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, নিরবচ্ছিন্ন শিল্প উৎপাদন, স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সম্প্রসারণ এবং যুক্তিসংগত কর ও শুল্ক কাঠামো সংস্কার—এই বিষয়গুলোই ২০২৬ সালে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office