অনলাইন ডেস্ক: | শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট | ২০১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আগুন ধরে গিয়েছিলো পুরো লঞ্চটিতেই
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে আগুন লেগে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর ও কবর দেয়ার প্রক্রিয়া শেষ করেছে প্রশাসন।
বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, মোট ১৪ জনের মৃতদেহ স্বজনরা শনাক্ত করে নিয়ে গেছে আর বাকী ২৩ জনকে দাফন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শনাক্তের জন্য তাদের ডিএনএ নমুনা রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
হাবিবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন ভবনে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে – যাতে নিখোঁজদের স্বজনরা সেখানে খোঁজ নিতে পারেন এবং শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা দিয়ে আসতে পারেন।
বর্তমানে সুগন্ধা নদীতে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড মিলে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছে। মি. রহমান বলেন, আর কোন মৃতদেহ পাওয়া গেলে তা সনাক্ত করে স্বজনদের খবর দেয়া হবে।
ঝালকাঠির এই লঞ্চটিতে অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া অন্তত ২৩ জনকে শনাক্ত করা যায়নি
ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ওই লঞ্চটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ জন মারা গেছেন বলে ঝালকাঠির স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন। তবে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার গতরাতে মৃতের সংখ্যা ৪০ বলে জানিয়েছিলেন।।
আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন লঞ্চের আরও অন্তত ৭০ যাত্রী জন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি আজ সকাল থেকে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ওই কমিটির সদস্য ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাজমুল আলম।
সাত সদস্যের এ কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিও আছেন। কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে রাতে বরিশাল হয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অবস্থানের সময় রাত তিনটা নাগাদ লঞ্চটিতে আগুন ধরে যায়।
পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বহু যাত্রী জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। বেশ কিছু যাত্রীর সন্ধান এখনো মেলেনি বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।