নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান বিএনপি সরকার অন্তহীন পথ চলছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আজ সকাল ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় সরকারের গত ছয় মাসের সার্বিক কার্যক্রম, উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে জনগণের ক্ষমতা সুনিশ্চিত হয়েছে। জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক এ সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে। সরকারের এ ১৮০ দিনের পথচলা জনগণের প্রতি জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতারই প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী দেড় দশকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গঠিত এ সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন রয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জনস্রোত এবং নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন কর্মসূচিতে জনগণের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে সরকারের ক্ষমতার একমাত্র উৎস এদেশের মানুষ।
সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ভোট গ্রহণের পরপরই সরকারের নির্বাচন ইশতেহার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’, বিএনপির ২৭-দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের ৩১-দফার আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়।
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়। এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা এবং দেশজুড়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
পবিত্র রমজান ও ঈদে কৃত্রিম সিন্ডিকেট রোধ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সুনিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, সংসদে রেকর্ড সংখ্যক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর এবং সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষা পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তি, মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগসহ ক্রীড়া ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় ২০০টি ইলেকট্রিক বাস এবং এআই ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে এ মুখপাত্র বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত পুলিশ ও প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভ্রমণ সতর্কতার দ্বিতীয় ধাপে উন্নীত করেছে। বহুল আলোচিত বিভিন্ন মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতিসহ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ নীতির ওপর ভিত্তি করে মর্যাদাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।