নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দেশের ৩০ লাখ তাঁতী ও ৬০ লাখ তাঁতশ্রমিকের ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাঁতবোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁতীরা। পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং সুতা, রং, রাসায়নিক আমদানি অব্যাহত রাখার দাবিতে সারাদেশের তাঁতীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) তাঁতীবোর্ড ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতারা বলেন, এর আগে তাঁতবোর্ডের সহায়তায় সুতা, রং, রাসায়নিক আমদানি করে স্বস্তিতে ব্যবসা করছিলেন। কিন্তু তাঁতবোর্ড গত দেড় বছরে তাদেরকে সুতা, রং, রাসায়নিক আমদানি সুপারিশ করেনি। ফলে খোলা বাজারে এসবের মূল্য দ্বিগুণ হয়েছে। আগে যে কাপড়টি তৈরি করতে খরচ হতো ৫০০ টাকা, সেটি এখন তৈরি করতে খরচ হচ্ছে এক হাজার টাকা। এ কারণে দেশের অধিকাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছে। এভাবেই তাঁতশিল্প এখন ধ্বংসের পথে।
তারা বলেন, নতুনভাবে বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতী সমিতি অনুমোদনের পর কোনো সুপারিশের মালামাল আমদানি বা বণ্টন করা হয়নি। শুধু জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে দেশের তাঁতীরা প্রতিদিন লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এক সময় বাংলাদেশের তাঁতশিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
তারা আরও বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জারি করা নতুন এসআরও এর মাধ্যমে যে শর্তারোপ করা হয়েছে সেই শর্ত সম্পূর্ণ পরিপালন করেই তাঁতীরা মালামাল আমদানি করে আসছে। এর বাইরে কোনো নতুন শর্ত সাধারণ তাঁতীরা মানতে রাজি নয়। কৌসুলে বিতর্কিত তাঁতবোর্ডের কর্মকর্তারা তাঁতীদের স্বার্থবিরোধী মতামত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ঢাকার মীরপুরে ৪০ একর জায়গার উপর তাঁতীদের পুনর্বাসনের জন্য বেনারশিপল্লী ভাষানটেক প্রকল্প তাঁতবোর্ড কর্তৃক তাঁতীদের পুনর্বাসন না করে ৪০ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ সমস্যা অবিলম্বে সমাধান করতে হবে।
এসময় ৪ দফা দাবি তুলে ধরে তারা বলেন, আওয়ামী দোসর খ্যাত কর্মকর্তা দিয়ে চলমান এসআরও বন্ধের অপতৎপরতা এবং পাঁয়তারা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের বিতর্কিত সদস্য এবং ডিজিএমের অবৈধ হস্তক্ষেপের ফলে তাঁতীদের আমদানি সুপারিশ বন্ধের অলিখিত নির্দেশ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাঁতীদের আমদানি সুপারিশ চালু করতে হবে। তাঁতীদের স্বার্থ বিরোধী, অযোগ্য তাঁত বোর্ডের মেম্বর দেবাশীষ নাগ এবং ডিজিএম রতন চন্দ্র সাহার অপসারণ করতে হবে এবং ৪০ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা মিরপুরের বেনারশি ভাষানটেক প্রকল্পে তাঁতীদের দ্রুত পুর্নবাসন করতে হবে।