শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বয়ংক্রিয়ভাবে কালোটাকা তৈরি হয় এমন আইন থাকা উচিত নয়: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

অর্থনীতি ডেস্ক   |   রবিবার, ১৯ জুন ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১১০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহিত ছবি

যে আইনের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কালোটাকা তৈরি হয় এবং সৎ করদাতাদের কালোটাকার মালিক হতে বাধ্য করা হয় তেমন আইন থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি লিখেন, ‘পত্রিকার সংবাদ অনুযায়ী মাননীয় অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে যাদের ঢাকা শহরে জমি বা ফ্ল্যাট আছে তারা সবাই কালোটাকার মালিক। কালোটাকা বলতে তিনি আয়কর রিটার্ন-এর “অপ্রদর্শিত” আয়কে বুঝিয়েছেন এবং বিশেষ করে গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকার উদাহরণ দিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় যে এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্তব্য নিয়ে কোনো আলোচনা চোখে পড়েনি। ডেভলপার কোম্পানিগুলোর সংগঠন (রিহ্যাব) বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় ফ্ল্যাট বিক্রয়ের রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।’

ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ লিখেছেন, ‘দেশে ব্যাপকহারে কর ফাঁকির প্রবণতা জানা কথা। কিন্তু অর্থমন্ত্রী জমি বা ফ্ল্যাট কেনা-বেচার বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়ায় একটি অসঙ্গতি উল্লেখ করে উক্ত মন্তব্যটি করেছেন। সরকার বিভিন্ন অঞ্চলের জমি বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটা দাম বেঁধে দিয়েছেন (জমি বা ফ্ল্যাটের আয়তন অনুযায়ী)। অর্থমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে, গুলশান এলাকার জন্য এই বেঁধে দেওয়া মূল্যের থেকে প্রকৃত মূল্য পাঁচ-ছয় গুণ বেশি। কাজেই যিনি ওই দাম দেখিয়ে বিক্রি করছেন তাঁর বিক্রয় থেকে পাওয়া আয়ের অধিকাংশের জন্য বৈধ উৎস আয়কর কর্তৃপক্ষকে দেখাতে পারবেন না এবং অপ্রদর্শিত থেকে যাবে। অর্থমন্ত্রীর মতে এভাবে আইনের অসঙ্গতি থেকে এমনিতেই কালো টাকা তৈরি হচ্ছে।’

তিনি লিখেছেন, ‘তবে অর্থমন্ত্রী সম্ভবত অসাবধানতাবশত একটি ভুল তথ্য দিয়ে সবাইকে ঢালাওভাবে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। বিক্রির রেজিস্ট্রেশনের জন্য যে দাম বেঁধে দেওয়া আছে সেটি সর্বোচ্চ নয়, বরং নূন্যতম, যাতে অন্ততঃ এই মূল্যের উপর উৎসে আয়কর সহ রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত যাবতীয় ফি আদায় হয়। কিন্তু এর চেয়ে অনেকগুণ বেশি প্রকৃত মূল্য দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে তো কোন বাধা নেই।

ওইসব অভিজাত এলাকায় প্রকৃত মূল্যে বিক্রির রেজিস্ট্রেশন করে বিক্রয় থেকে পাওয়া পুরো অর্থ আয়কর রিটার্ন-এ প্রদর্শন করার নজির আমার কাছে আছে। আর অনেকেই যাঁরা এসব এলাকায় সরকারের কাছ থেকে জমি বরাদ্দ পেয়ে ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে এপার্টমেন্ট বিল্ডিং বানিয়ে ভাড়া দিচ্ছেন, তাঁরাও এপার্টমেন্ট বিক্রি না করে থাকলে এভাবে কালো টাকার মালিক হবার কথা নয়।’

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ লিখেন, ‘তবে অর্থমন্ত্রী সমস্যাটি ঠিকই চিহ্নিত করেছেন। নীতিবান কোনো করদাতা প্রকৃত মূল্য দেখিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলেও ওই মূল্য দেখিয়ে কিনতে আগ্রহী ক্রেতা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়। রেজিস্ট্রেশন করার বেশি ফি তো আছেই, তার উপর ওই দাম পরিশোধ করার মতো বৈধ বা “প্রদর্শিত” আয় আছে এমন ক্রেতা অনেক সময় খুঁজে পাওয়া যায় না। সেটাও অর্থমন্ত্রীর সঠিক অনুমান।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘অথচ সমস্যাটির সমাধান কঠিন কিছু নয়। জরিপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য থেকে এলাকা ভেদে জমি ও ফ্ল্যাটের কাঠা বা বর্গফুট প্রতি প্রকৃত বাজার দাম কত তার ভিত্তিতে কিছু সময় অন্তর অন্তর রেজিস্ট্রেশন-এর জন্য নূন্যতম দাম অন্তত আর একটু বাস্তবসম্মত অঙ্কে নির্ধারণ করা যায়। এবং যদি রাজস্ব আয়ের ক্ষতি করেও ডেভেলপার কোম্পানিগুলোর দাবি মানতেই হয়, সে ক্ষেত্রে বিক্রয় দামের অনুপাতে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ফি-সমূহের হার কমিয়ে দিলেই হয় (কয়েক বছর আগে এই ফি দাবির মুখে অনেকটা কমানো হয়েছিলো)।’

তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু এমন আইন নিশ্চয়ই থাকা উচিত নয় যার মাধ্যমে অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কালো টাকা তৈরি হয় এবং সৎ করদাতাদের কালো টাকার মালিক হতে অনেকটা বাধ্য করা হয়। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতা দু’পক্ষই প্রকৃত মূল্য প্রদর্শন করতে আগ্রহী হবেন এরকম নৈতিক আচরণ তৈরি হওয়াই সবচেয়ে কাম্য।’

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office