শিরোনাম
সোমবার থেকে কাঁচামরিচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে: কৃষিমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ করছাড়: এনবিআর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন হাকালুকি হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় হাজারো মানুষের ঢল শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান

ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে আছে ৩ লাখ কোটি টাকা: এবিবি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই ছিল, যা এখন সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ আয়োজিত ‘পোস্ট ইলেকশন ২০২৬ হরাইজন: ইকোনমি, পলিটিক্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাসরুর আরেফিন বলেন, দেশে যে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি রয়েছে, সেটি কোনো সাধারণ এনপিএল সংকট নয়। আগে খেলাপি ঋণের হার ৯ শতাংশ বলে মনে করা হলেও বাস্তবে তা ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। এখন অন্তত বাস্তব অবস্থা স্পষ্ট হয়েছে, যা সংস্কারের পথে এগোনোর সুযোগ তৈরি করেছে।

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, যেসব ঋণ পুরোপুরি পচে গেছে, সেগুলো অবলোপন করে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা প্রয়োজন। এতে শুরুতে কিছু মূলধনি চাপ তৈরি হলেও স্বচ্ছতা ফিরলে নতুন আয় সৃষ্টি হবে এবং রাজস্ব সমস্যারও সমাধান সম্ভব।

তিনি জানান, কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অত্যধিক হওয়ায় সামগ্রিক গড় হার বেশি দেখাচ্ছে। তবে ১৫ থেকে ২০টি ব্যাংকের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ চার শতাংশের নিচে রয়েছে, যা খাতটির জন্য ইতিবাচক দিক।

খেলাপি ঋণকে মূলত ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মাসরুর আরেফিন বলেন, নতুন করে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হওয়ার পেছনে তদারকির ঘাটতিই বড় কারণ। এজন্য ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার জন্য ভিন্ন সমাধান দরকার।

তিনি আরও বলেন, ঋণপ্রবৃদ্ধি কম থাকায় ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে ঝুঁকেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক। বর্তমানে ব্যাংক খাতে তারল্য পর্যাপ্ত রয়েছে এবং গড় লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও ১০০ শতাংশের ওপরে।
মাসরুর আরেফিন বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ঋণের চাহিদা কমেছে। তবে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে এবং নির্বাচনের পর বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে ব্যাংকিং খাতেও গতি ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যাংক খাতে লুটপাট, অর্থপাচার ও বেনামি ঋণকে অত্যন্ত বিপজ্জনক উল্লেখ করে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, এসব আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে সামগ্রিক সংকটের মধ্যেও ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং কয়েকটি ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানের সূচকেও ভালো করছে।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যেখানে ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থাকার কথা, সেখানে বাস্তবে তা প্রায় ৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা উদ্বেগজনক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ ব্যাংক খাতের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office