নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ও শুল্ক আরোপের বিষয়টি এখনো বিকাশমান বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে নতুন সরকারের বলার মতো কোনো অবস্থান তৈরি হয়নি।
সচিবালয়ে আজ দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
‘শুল্কের বিষয়টি এখনো বিকাশমান’ উল্লেখ করে তিনি জানান, মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। পরবর্তীতে সেকশন ১২২ এর অধীনে প্রথমে ১০ শতাংশ, তারপর সব দেশের জন্যই ১৫ শতাংশ ঘোষণা করেছে মার্কিন সরকার।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমরা ঘোষণা শুনেছি। কিন্তু লিখিত কিছু এখনো পাইনি। আর সেকশন ১২২ যেটা আইনি ব্যাখ্যা যেটা আছে, সেটা হলো সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের ভেতরে কংগ্রেস কর্তৃক রেটিফাই হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে বিগত সরকার কয়েকদিন আগে করেছে। এ ব্যাপারে এখনো আপনাদেরকে বলার মতো আমাদের কোনো অবস্থান তৈরি হয়নি। আমরা দেখছি এটার পক্ষে-বিপক্ষে কী আছে? চুক্তির বিভিন্ন ধারা থাকে। সবগুলো যে পক্ষে থাকে তা না, সবগুলো যে বিপক্ষে থাকে তাও না। এটা দেখব তারপরে আমরা একটা আমাদের করণীয় ঠিক।’
একটা চুক্তি হওয়া থেকে বলবৎ হওয়া পর্যন্ত কিছু প্রক্রিয়া থাকে। এখন মার্কিন আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। তাই ‘আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না’ বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়গুলো গোপন ও তড়িঘড়ি চুক্তি করেছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট ছিল, সেটা চুক্তির আলোচনার সময়। তবে এ চুক্তি সেনসিটিভ ইস্যু ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সেনসেটিভ। বিভিন্ন কারণেই এই বিকাশমান পরিস্থিতিতে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
এদিকে শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি, চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরের কী সমস্যা সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’
বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বাজারে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়ে গেছে, সেগুলো সবজি জাতীয়।’
তিনি বলেন, ‘রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে একমাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতির ও শূন্যতার সুযোগ নেয়। ৪০-৫০ টাকার লেবু ১২০ হয়ে গেছে ওই পরিস্থিতিতে। এরপর কিন্তু ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।’
চাঁদাবাজি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধে এতদিন বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। অপেক্ষা করেন, আমরা কাজ করে দেখাব।’